বিগত সরকারের পাচার করা টাকা ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে ব্যবহার করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া দিনব্যাপী সফরের দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৯১১ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ কার্ড বিতরণ করেন সরকার প্রধান।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিগত স্বৈরাচারের সময় যে দুর্নীতি হয়েছে তার মাধ্যমে দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমরা এই দুর্নীতিকে রোধ করতে চাই। এটা জনগণের টাকা, জনগণের অর্থ পাচার হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করব, ইনশাআল্লাহ।
আমরা দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম, কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের কথা বলেছিলাম। ইতোমধ্যে কৃষকদের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সারাদেশের ১২ লক্ষ কৃষক এতে সুবিধা পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার মোট ৯৪১ জন অসচ্ছল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীর হাতে প্রতীকীভাবে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরীক্ষামূলকভাবে আগামী জুন মাসের মধ্যে ১৪টি উপজেলায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে।
পরিবারে মা অথবা নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে।
এর আগে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে গত ১০ মার্চ ঢাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলার বাগবাড়ীর নশিপুর-চৌকিরদহ খাল খনন, নিজ পৈতৃক ভূমি গাবতলীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন ও দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।