রাবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ একাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ছুরিকাঘাতে আহত শিক্ষার্থীর নাম হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। হামলা ঠেকাতে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর বাম আজহারুল ইসলাম। তিনিও একই বিভাগের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম হাসিবুল ইসলাম হাসিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও প্রক্টরসূত্রে জানা যায়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তার বান্ধবীকে নিয়ে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গনে বসে ছিলেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত এক প্রহরী তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রহরীর বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ধারণা করেন, প্রহরী নিজ উদ্যোগে নয়, কারও নির্দেশে তাদের হয়রানি করেছেন এবং এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।
এর আগেও এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, কিছু ছাত্র কাপলদের লক্ষ্য করে হয়রানির মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। ঘটনাটি সোমবারই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধান করা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ছাত্রদল নেতা হাসিবের নেতৃত্বে বহিরাগত নিয়ে এসে হাসান নামে ওই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে দুটি সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী আক্তার বলেন, আমরা জুসের দোকানে বসে আছি। আমরা দেখতে পেলাম হাসিব উত্তেজিত হয়ে দৌড়ে আসছে। দেখলাম তারা কথাবার্তা বলছে। পরে একজন উঠে যাওয়ার সময় গলা ধাক্কা দিয়ে মারামারি শুরু করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান জানান, হাসিব গতকাল থেকেই বিভিন্নভাবে ফোনে হুমকিধামকি দিচ্ছিল। আজ (মঙ্গলবার) রাতে আমি একটা চায়ের দোকানে বড় ভাই ও বন্ধুদের সাথে বসে ছিলাম। পরে হাসিব বেশ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমার সাথে যারা ছিল তাদেরকেও আঘাত করে।
তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিব। তিনি বলেন, আমি খুবই অসুস্থ। সেই পহেলা বৈশাখের পর থেকেই অসুস্থ। আজ একটা পরীক্ষা ছিল সেটা দিয়ে বাসায় চলে আসি। আমি বাসা থেকে ক্যাম্পাসেই যায়নি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখলাম আমি নাকি কোন শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে চাকু মারার মতো কোনো ঘটনা কেউ ঘটালে, তাঁকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। সে যেই হোক না কেনো। আর চাঁদাবাজি ও বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন খতিয়ে দেখবে। প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু’র জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা এক পোস্টে লিখেছেন, ছাত্রদলের হাসিব নামের এক সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত করেছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীকে।
ভিসি স্যারের সাথে কথা হয়েছে শিক্ষার্থীদের সামনেই। তারা সবাই শুনেছে। ভিসি স্যার বলেছেন, “আমাকে একটু সময় দেন দেখেন কি করি!”
আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই আপনার উপর। বাকিটা সামনের সময়গুলো বলবে।
এদিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় প্যারিস রোডে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।