মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে থানা ঘেরাও করে আসামী গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম ছাত্রদলের

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে থানা ঘেরাও করে আসামী গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম ছাত্রদলের

জামাত-শিবির নেতাকর্মীদের গুপ্ত ও মহান মুক্তিযুদ্ধের একাত্তরের পরাজিত শক্তি উল্লেখ করে ৪৮ ঘণ্টা মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করার দাবিতে ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও করে আল্টিমেটাম দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। 


রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানার সামনে সমাবেশ ও থানা ঘেরাও করে তারা। গত বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির উপরে অতর্কিত গুলি, ককটেল নিক্ষেপ, হামলা ও অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার ছাত্রদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।


কলেজ চত্ত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঈশ্বরদী থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ এবং প্রায় ১ ঘন্টা থানা ঘেরাও রাখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ‘আসামী গ্রেপ্তার করবেন’ এমন আশ্বাস দিলে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে থানার সামনে থেকে সরে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।


ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম দিপু, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ।


এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মামনুর রশীদ নান্টু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আওয়াল কবীর, সাবেক ছাত্রনেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্মআহবায়ক একেএম সাজেদুজ্জামান জিতু, সদস্য সচিব আলী জুবায়ের প্রতিক, যুগ্মআহবায়ক মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রদল নেতা সম্্রাট হোসেন, রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, ইমরান হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, মো. ইব্রাহিম হোসেন, মীর হুমায়ুন কবীর জেহাদ, বিকি আগারওয়াল, শিশির সারোয়ার প্রমূখ।


বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা, ‘গুপ্ত রাজনীতি চলবে না’, ‘শিবিরের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘সন্ত্রাস, সন্ত্রাস, জামাত শিবির সন্ত্রাস’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ছাড়সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। তারা অভিযোগ করেন, শিবির দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কাজ করছে। শিবিরের এ ধরনের কর্মকান্ড অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও জানান তারা। বক্তারা দাবি করেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার সকল ফুটেজ সনাক্ত করে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।


উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তার ও চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘিরে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতা-কর্মীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গুলিবর্ষন ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ সময় কলেজ গেট সংলগ্ন ছাত্রদলের কার্যালয়, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বসার তৈরী ছাউনি ভাংচুর করা হয়।


এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতািকর্মীদের আসামী করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করে ছাত্রদল। ছাত্রদলের দায়ের করা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।