বৃষ্টির দেখা নেই, ঝড়ো বাতাসে নুয়ে পড়ছে পাকা ধান
গেল চারদিন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও রাজশাহীতে দেখা মিলছে না বৃষ্টির। বৃষ্টি না হলেও আকাশ থাকছে মেঘলা ও বইছে ঝড়ো বাতাস। বাতাসে পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ নুয়ে পড়ছে। বাতাসে ঝরে পড়ছে আমও। আর এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
রাজশাহীতে গেল চারদিন থেকে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। তবে দেখা মিলছে না কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি। তবে রাজশাহীতে বৃষ্টির দেখা না মিললেও আবহাওয়া অফিস বলছে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ ও বিকেল ৬টার সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬৮ শতাংশ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি মাসে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। ৭ এপ্রিল ১ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং ২৮ মার্চ ৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এরপর আর তেমন বৃষ্টি হয়নি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং এপ্রিলজুড়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে। ২২ এপ্রিল রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। কোন জায়গায় ধান পেকে গেছে। আবার কোন জায়গায় ধান আধাপাকা অবস্থায় আছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে।
চলতি বছর রাজশাহীতে প্রায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার টন। এর আগে তাপদাহে আম ঝরলেও এখন জোর বাতাসে ঝরছে।
গোদাগাড়ীর সোনাদিঘী গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, অনেক কষ্ট আর ঋণের টাকা দিয়ে ধান চাষ করেছি। কিন্তু এই ঝড়ো বাতাসে ধান মাটিতে মিশে যাচ্ছে। শুনছি দুয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হবে। যদি বেশি বৃষ্টি হয় তাহলে আমাদের জন্য ক্ষতি। দ্রুত আবহাওয়া ভালো না হলে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
তানোর উপজেলার মালবান্দা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ধান এখন কাটার উপযোগী। ঠিক এই সময়ে ঝড়ের মতো বাতাসে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় চালের মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় কাজ করছে। ধানে পচন ধরলে বাজারে দাম পাওয়া যাবে না।
কৃষক সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার, বীজ আর সেচ খরচ এবার অনেক বেশি ছিল। অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন ফসল ঘরে তোলার বদলে লোকসানের হিসাব করতে হচ্ছে।
পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি মাহবুব ইসলাম বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল, গুটিও ভালো ছিল। কিন্তু এর আগে কয়েক দিনের টানা তাপে পরিস্থিতি বদলে যায়। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আম টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন বেশ বাতাস বইছে। এতে ছোট ছোট আম ঝরে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচাল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় পাকা ধান নুয়ে পড়েছে। ধান পরিপক্ব হলে যতদ্রুত সম্ভব কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছেন এবং সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন।