রবিবার, মে ০৩, ২০২৬

বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে সেচ নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি: ০৩ মে ২০২৬ ০৩:০৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি: ০৩ মে ২০২৬ ০৩:০৮ অপরাহ্ন
বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে সেচ নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ

‎বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপড় গ্রামে একটি পৈতৃক সেচ নলকূপের লাইসেন্স বাতিল ও বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক মো. মাসুদ রানা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎ভুক্তভোগী মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, তার পিতা মৃত আনিসুর রহমান ১৯৮৮ সালে আইআরডিবি’র মাধ্যমে একটি অগভীর নলকূপ এবং ১৯৯৯ সালে বগুড়ার সেউজগাড়ি জামতলা এলাকা থেকে বি.এ.ডি.সি’র অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই নলকূপের মাধ্যমে নিজ জমিসহ আশপাশের কৃষকদের জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছিলেন তারা। পিতার মৃত্যুর পর তিনিই কার্যক্রমটি পরিচালনা করে আসছেন।

‎তিনি জানান, ২০০৮ সালের আগে সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় লাইসেন্সের প্রয়োজন না থাকলেও পরবর্তীতে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলে ২০১৫ সালে উপজেলা সেচ কমিটির কাছে আবেদন করেন। এ সময় তার নলকূপের প্রায় ৫৮০ ফুট দূরত্বে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়, যা ‘বরেন্দ্র’ নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অনিয়ম, কৃষকদের অজান্তে স্বাক্ষর গ্রহণ এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে তিনি শেরপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় স্থানীয় কৃষক মো.অয়েজ, মহসিন ও রফিকুলও পৃথক মামলা করেন।

‎মাসুদ রানা দাবি করেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার প্রতিপক্ষের ওই গভীর নলকূপের লাইসেন্স প্রদান থেকে বিরত থাকে। তবে পরবর্তীতে ভিন্ন নামে একটি লাইসেন্স উপস্থাপন করা হয়, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বা নিজস্ব জমির তথ্য পাওয়া যায়নি।

‎অন্যদিকে, মাসুদ রানার নলকূপটি পুরাতন ও নিজস্ব জমিতে হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে ২০২১ সালে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কিন্তু পুনরায় তার লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করা হলে ২০২৩ সালে তা বাতিল হয়ে যায়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে তার লাইসেন্স পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তার বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে। তারপর থেকে তার সেচ কার্যক্রম চলমান থাকে।

‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তার বিদ্যুৎ মিটার বিকল হলে তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অবহিত করেন এবং নতুন মিটার স্থাপনের জন্য ১ হাজার ৭১২ টাকা জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মিটার স্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীতে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে—যদিও এ বিষয়ে তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।

‎এ অবস্থায় তিনি ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎এব্যাপারে উপজেলা বিএডিসি (সেচ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র এর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়।

‎পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম উৎপল মন্ডল জানান, সেচ কমিটি লাইসেন্স বাতিল করায় পূণরায় সংযোগ প্রদান করা হয়নি।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পূর্বের সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে আবারও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। 

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মাসুদ রানা রবিবার (৩ মে) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি তার বৈধ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনর্বহাল, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।