বাঘায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকার জিরা লুটের অভিযোগ
বাঘায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকার জিরা ও সাড়ে ৭২ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জিরার মালিক পাবনার সুজানগরের চরচিনাখড়া গ্রামের মরিুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস সরদার মিঠুন বাদি হয়ে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জিরা ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার মিঠুন জানান, বাঘা উপজেলার আড়ানী পালপাড়া গ্রামের চিনি ব্যবসায়ী শান্ত ইসলাম কয়েক আগে তার নিকট থেকে এক ট্রাক জিরা কিনতে চান।
সে রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার ব্রাহ্মান বড়িইল গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সিনারুল ইসলামের সাথে শান্ত ইসলামকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তার সাথে যোগাযোগ করে ৫৫০ টাকা প্রতিকেজি দাম অনুযায়ী ৯ হাজার কেজি জিরা ট্রাক করে আড়ানীতে নিয়ে আসা হয়। বুধবার আড়ানী বাজারে শান্ত ইসলাম জিরা বুঝে নিয়ে নগদ ২৫ লাখ এবং সাড়ে ২৪ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। ওই চেকের টাকা আড়ানী বাজারের ব্যাংক থেকে তুলে দেয়ার নাম করে ফেরদৌস সরদার মিঠুন সাথে নিয়ে হাঁটা ধরেন শান্ত ইসলামসহ কয়েকজন।
এরপর একটি গলির মধ্যে গিয়ে ফেরদৌস সরদার মিঠুনকে ছুরি ধরে টাকা এবং চেকটি কেড় নেন শান্ত ইসলাম ও তার লোকজন। টাকা ও চেক কেড়ে নেয়ার পরে ফেরদৌস সরদার মিঠুনকে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু তিনি চলে না গিয়ে টাকার দাবি করতে থাকেন এবং এটা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হককে জানালে তিনি বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি শুরু করেন। শেষে বাধ্য হয়ে ফেরদৌস সরদার মিঠুন রাতে বাঘা থানায় উপস্থিত হয়ে সমস্ত শান্ত ইসলাম এবং তার মামা সুজাত আহমেদ তুফান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার ভাই সুইট ইসলামের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
বিষয়টি জানতে চাইলে বাঘা থানার ওসি সিরাজুল করিম বলেন, এ ঘটনা একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জিরা ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার মিঠুন বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানীকৃত মালামাল ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী দরে বিক্রয় করা হয়। সেই মোতাবেক আড়ানীর পালপাড়া গ্রামের সামসুল ইসলামের ছেলে শান্ত ইসলামের কাছে ৯ হাজার কেজি (এক ট্রাক) জিরা নিয়ে আসা হয়। জিরার দামের মধ্যে ২৫ লাখ নগদ, সাড়ে ২৪ লাখ টাকা চেক কাছে থাকা সাড়ে ৭২ হাজার টাকা ছিনতাইা করে নেয়।
এ বিষয়ে ট্রাক ড্রাইভার লালচান বলেন, ট্রাকের হেলপার মামুন হোসেন ও জিরার মালিককে সাথে নিয়ে ৯ হাজার কেজি জিরা ট্রাক লোড করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শান্ত ইসলামের কাছে আনা হয়।
আড়ানীতে পৌঁছলে তার মামা বিএনপির নেতা সুজাত আহমেদ তুফানের বাড়ির পাশে ট্রাক আনলোড করার জন্য অবস্থান করতে বলেন। মালামাল আনলোড করার আগে মালামালের টাকা দাবী করা হয়। এ সময় নাফিজ স্বাক্ষরিত পূবালী ব্যাংক পিএলসরি নাফিজ এন্টারপ্রাইজের ৬৩৪৬৯০১০০০০২৬০ নম্বর সম্বলতি একটি ফাঁকা চেক প্রদান করে। আগে থেকে ঠিক করে রাখা ভটভটিতে ১৫০ বস্তা অর্থাৎ ৪ হাজা ৫০০ কেজি জিরা অন্যস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ১৫০ বস্তা র্অথাৎ ৪ হাজার ৫০০ কেজি জিরা শান্ত ইসলামের মামা সুজাত আহমেদ তুফানের বাড়ি সংলগ্ন গোডাউনে আনলোড করা হয়।