এশিয়াজুড়ে খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ধাক্কার চেয়েও এশিয়ার অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে বড় ঝুঁকি মূল্যস্ফীতি। সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতিতে ভারত থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে মূল্যস্ফীতি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ফিলিপাইন ও পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ফিলিপাইনে ৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বছরের শেষভাগে এল নিনোর কারণে আবহাওয়া আরও শুষ্ক ও উষ্ণ হয়ে উঠলে উৎপাদন কমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিগুলোতে ভোক্তা মূল্য সূচকের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমিয়ে দিতে পারে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম আহমাদ সামদিন বলেন, ২০২৬ সালে এশিয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, সার বাজারে অস্থিরতা এবং জলবায়ু অনিশ্চয়তার কারণে আগামী কয়েক প্রান্তিকেও খাদ্যপণ্যের দামের ওপর চাপ উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, নিজস্ব খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে বিভিন্ন দেশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ ও বেশ কিছু দেশে চরম বৈরি আবহাওয়ার কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সারের দাম বেড়েছে। তবে খাদ্যপণ্যের দামের ওপর এর প্রভাব টের পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। সবকিছু মিলিয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ওপর লেখা এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ব্যাংক অব আমেরিকার অর্থনীতিবিদ রাহুল বাজোরিয়া বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যার সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির চাপ পড়বে।”
এশিয়ার আঞ্চলিক বন্ড বাজারে এরই মধ্যে উদ্বেগের ছায়া পড়েছে। উদীয়মান এশিয়ার আটটি দেশের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের গড় সুদহার সূচক ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৮০ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আশঙ্কা করছে, আগামী বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি আরও ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ বছরের জন্য অঞ্চলের নিত্য ব্যবহার্য্য পণ্য ও সেবার মূল্যসূচক সিপিআই বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ করেছে।