চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমতে শুরু করেছে হামের প্রকোপ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত দুই সপ্তাহ ধরে হাম, এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
সোমবার (১১ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল-এর দুটি আইসোলেশন ইউনিটে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৯ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৪ জন ছেলে ও ৩৫ জন মেয়ে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন জানান, বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। তার মতে, সঠিক চিকিৎসা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রমের কারণে আক্রান্তরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলার বেশির ভাগ শিশু টিকার আওতায় এসেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সংক্রমণ আরও কমে আসবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ২,০১,৮৯৭ জনকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২,০০,৬৯২ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে এবং ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে ২,১৩,৫০০ ডোজ। এই অগ্রগতি সংক্রমণ কমার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,২৭৫ জন রোগী। এর মধ্যে গত চার মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১,২০৮ জন। একই সময়ে সন্দেহজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ৪ এপ্রিল জেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি উপজেলাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরদিন থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এই উদ্যোগ দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সামাদ জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইসোলেশন ইউনিটে বাড়তি চিকিৎসক রাখা এবং সন্ধ্যা ও রাতের শিফট চালু করা হয়েছে। হামের টিকা কর্মসূচি প্রায় শেষ পর্যায়ে, পাশাপাশি অপুষ্ট শিশুদের ভিটামিন অ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে হামের রোগীর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন কোনো রোগী ভর্তি নেই। সব রোগী মূলত সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে। তাই সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং জনসচেতনতা আরও বাড়ানো জরুরি।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। টিকাদান ও সতর্কতা অব্যাহত রাখলেই কেবল হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।