রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

আদালতের এজলাসে দুই আইনজীবীর হাতাহাতি, সদস্যপদ স্থগিত

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ মে ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ মে ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন
আদালতের এজলাসে দুই আইনজীবীর হাতাহাতি, সদস্যপদ স্থগিত

বরগুনার পাথরঘাটায় আদালতের এজলাস কক্ষে দুই আইনজীবীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত ওই দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি।

রোববার (১৭ মে) রাতে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, দুপুরের দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতির ঘটনায় দুই আইনজীবী হলেন, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি। নাহিদ সুলতানা লাকি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি এবং পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু তার চেম্বার থেকে একটি ইজিবাইকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা হন। এ সময় তার সঙ্গে অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকির এক মহুরি (আইনজীবীর সহকারী) মিরাজ আহমেদও ওই একই ইজিবাইকে আদালতে আসেন। পরে মঞ্জুর সঙ্গে ওই মহুরি একই গাড়িতে আসাকে কেন্দ্র করে উভয় আইনজীবীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আদালতের এজলাস কক্ষে মঞ্জু ও লাকির মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে এ সময় ওই আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পনির শেখ তার খাস কামরায় ছিলেন।

পরবর্তীতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা আইনজীবী সমিতির একটি জরুরি সভার মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভসবে স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব বিচারিক আদালতে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।

হাতাহাতির ঘটনায় অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু বলেন, অ্যাডভোকেট লাকি আমার সিনিয়র। তবে তিনি সব আইনজীবীদের সঙ্গেই খারাপ আচরণ করেন। তিনি অতিরিক্ত পিপি এবং পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক, এ দুটি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। জেলা আইনজীবী সমিতিও যদি কিছু বলে তারপরও তিনি তার মতোই করেন। তবে সেটি তার বিষয়, আমার কিছু না। কিন্তু আমার কাছে মামলা বেশি থাকায় তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে সহ্য করতে পারেন না। সকালে ইজিবাইকে আমার সঙ্গে তার একজন মহুরি আদালতে যায়। আমার সঙ্গে তার ওই মহুরি একত্রে আসায় আমাকে তিনি গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আমার গায়ে ব্যাগ ছুড়ে মেরেছে এবং জুতাও মেরেছে।

এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি বলেন, অ্যডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু আওয়ামী লীগ করেন। এ ছাড়া, এখানে আওয়ামী লীগ বেশি, বিএনপির আমি একা। এ কারণে তাদের একটা দাপট আছে। তিনি সবসময়ই আজেবাজে কথা বলেন, আমার চেম্বারের মহুরি নিয়ে ঝামেলা করে। আমার মামলা নিয়ে ঝামেলাসহ তিনি আমার ক্ষতি করারও চেষ্টা করেন। লোকজনের অভিযোগ আছে সে দুই পক্ষেরই মামলা চালায়। এ বিষয়ের আমি সঠিক বিচার করবো বিধায় তিনি আমার উপরে ক্ষিপ্ত। আর এ কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, হাতাহাতির একটি ভিডিও দেখে জরুরি সভা ডেকে ওই আইনজীবী দুইজনেরই সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জেলার সব আদালতে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে স্থায়ীভাবে সদস্যপদ বাতিল করার জন্য কেন বার কাউন্সিলে প্রেরণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট