রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

বহুতল ভবন নির্মাণে ঝুঁকিতে আরেক ভবন, আতঙ্কে বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে ২০২৬ ০৯:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মে ২০২৬ ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
বহুতল ভবন নির্মাণে ঝুঁকিতে আরেক ভবন, আতঙ্কে বাসিন্দারা

রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে পাশে অবস্থিত আরেকটি বহুতল ভবন। ভবন মালিকের দাবি, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা, নিম্নমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়ম না মেনে গভীর খননের কারণে তাদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ফেটে গেছে, নিচ থেকে বালু ও পানি বের হচ্ছে এবং পুরো বাড়ি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।


মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ভবনের মালিক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকারের মেয়ে তামান্না সুলতানা। ডা. হাবিবুল্লাহ সরকার ও তার স্ত্রী হজ¦ করার জন্য সৌদিতে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। এই বাড়িটির অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত গলিতে। 


তামান্না সুলতানা বলেন, তাদের বাড়ির পাশেই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ড্রিম স্মিথ এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজান যৌথভাবে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। শুরুতে কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই মাটি খননের কাজ শুরু করা হয়। পরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আদালতে মামলা ও আইনজীবীর নোটিশ পাঠানোর পর নির্মাণকারী পক্ষ ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর খননের জন্য ২০ ফুট স্টিল শিট দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ১৩ ও ২০ ফুটের মিশ্র শিট ব্যবহার করছে। 


তামান্না সুলতানা বলেন, পুরো জমি তিন ধাপে খননের কথা থাকলেও নির্মাণকারী পক্ষ একসঙ্গে দুই ধাপের মাটি কেটে ফেলে। কাজিহাটা এলাকার মাটি নরম হওয়ায় শুকনো মৌসুমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। বরং কয়েক মাস কাজ বন্ধ রেখে বর্ষা শুরু হওয়ার পর পুনরায় খননকাজ শুরু করা হয়।


তিনি অভিযোগ করেন, নিম্নমানের স্টিল শিট ব্যবহারের কারণে মাটির চাপে সেগুলো সরে যায় এবং এতে ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়। একই সঙ্গে তাদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এমনকি ভিত্তির নিচ থেকে বালু ও পানি বের হতে থাকে। ক্ষতি রোধে ৪০ থেকে ৫০ ড্রাম ট্রাক বালি ফেলে ভরাট করার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাত্র ১১ ট্রাক বালি ফেলা হয়। পরে সেই বালুও সরিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বর্তমানে অল্প কিছু বাঁশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ ঘটনায় আরডিএ, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।


তামান্না সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের বাড়ি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও নির্মাণকারী পক্ষ তা আমলে নেয়নি। এমনকি তারা বলেছেন, “যার বাড়ির ক্ষতি হয় হোক, বাড়ি পড়ে গেলেও আমরা আমাদের ভবনের কাজ চালিয়ে যাব।” তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন। 


তবে তামান্না সুলতানার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড্রিম স্মিথ প্রোপাটিজের স্বত্বাধিকারী ও রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, আমরা বিল্ডিং তৈরির সব নিয়ম মেনে সেখানে নির্মাণ কাজ করি। আমরা ওদের দিকে আট ফিট ছেড়ে রেখেছি। সঙ্গে সেখানে স্লিপার দেওয়া হয়েছে যা কোন সমস্যা না হয়। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। তারা নিজেরা পাঁচ ফুটের প্রাচীর তুলেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছে। এতে দোষ হচ্ছে আমাদের। আমার সঙ্গে তারা কথাও বলেন না। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গেই বলে।