রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

হুটহাট বাস ধর্মঘট কেন?

সোনার দেশ ১৯ মে ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৯ মে ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ন
হুটহাট বাস ধর্মঘট কেন?

যাত্রীদেরকে জিম্মি করার ‘পুরনো খেলা’ বন্ধ করুন

ধর্মঘট ডাকার অধিকার রয়েছে। তবে ডাকার আগে ঘোষণা দিতে হবে। কারণ উল্লেখ করে যাত্রীসহ সবাইকে অবগত করতে হবে। যাতে করে যাত্রীরা ধর্মঘটের কারণে অন্য ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু রাজশাহীতে শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে হুটহাট বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে করে ঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তির মধ্যে পড়েন যাত্রীরা। এবার ইদের আগে বাস বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদেরকে। পান থেকে চুন খসলেই যেন বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। এর এতেই যাত্রীদের দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার যেন অন্ত থাকে না। 


মঙ্গলবার (১৯ মে) সোনার দেশ পত্রিকায় ‘হুটহাট বাস ধর্মঘট কেন?’-শিরোনামে একটি প্রধান খবর প্রতাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী এই আন্তজেলা পরিবহন সংকটের নেপথ্যে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সোমবার (১৮ মে) ভোর থেকে বন্ধ করা হয়ে যায় সব রুটের বাস চলাচল। ইদের আগে ভোগান্তি চরমে তুলেছে যাত্রীদের।


সারাদিন বাস বন্ধ রাখার পর রাত আবারও বাস চলাচল শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে চার দফায় বন্ধ হয়েছে বাস চলাচল। সেপ্টেম্বর মাসে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুই দফায় বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। এছাড়াও গত এপ্রিল মাসে নাটোরের মালিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে দুইদিন বাস চলাচল বন্ধ থাকে। সবশেষ সোমবার (১৮ মে) ভোর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত প্রায় ১৬ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর শিরোইল থেকে দুরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বাস ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের।


নগরীর ভদ্রা থেকে আন্তজেলা বাস ছাড়া হয়। এখানেও প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০টি বাস ছেড়ে যায়। এছাড়াও নগরীর রেলগেট থেকে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০টির বেশি বাস ছেড়ে যায়। রাজশাহী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯০০টি বাস ছাড়ে। আর বাস বন্ধ হলে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। শুধু হুটহাট ধর্মঘটের কারণে যাত্রীরা হয়রানি হয় তা না, শ্রমিকদের এই ধর্মঘটে পরিবহন মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হোন। সেই সাথে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাত্রীসহ সাধারণের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ব্যবসা খারাপ হয়।


তাই  যাত্রীসহ সকলের কথা চিন্তা করে ধর্মঘটের মতো পদক্ষেপগুলো শ্রমিকদের নেওয়া উচিত। তারা বাস বন্ধ না করে আলাপ-আলোচনার মধ্যে প্রশাসনের সাথে বসে নিজেদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিতে পারেন। তাহলে যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়বে না। এবিষয়ে সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। সেই সাথে হুটহাট বাস ধর্মঘট করে যাত্রীদেরকে জিম্মি করার ‘পুরনো খেলা’ বন্ধ করতে হবে।