পশুর হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি
আর দুইদিন পরই পবিত্র ইদুল আজহা। ইতোমধ্যে রাজশাহীর হাটগুলোতে কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে। এসব হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। যেসব ক্রেতা হাটে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পশু দেখছেন আর মূল্য যাচাই করছেন।
রোববার (২৪ মে) রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত সিটিহাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। এর আগে শনিবার (২৩ মে) বানেশ্বর হাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। পশুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির অনেক পশু এসেছে। তবে তেমন ক্রেতা নেই। বেশির ভাগই দাম জিজ্ঞাসা করে চলে যাচ্ছে।
নওগাঁর মান্দা থেকে ১১টি গরু নিয়ে এসেছেন আকমল হোসেন নামের এক খামারি। তিনি বলেন, এখনও ক্রেতা নামেনি হাটে। যারা আসছেন, তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেনি।
তিনি জানান, ১১টির মধ্যে ছোট গরুর দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বড়টার দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা। সাধারণত ইদের দুই-তিন দিন আগে গরু কিনে থাকেন। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। শেষ সময় পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হবে বলে আশা করি।
নাটোরের লালপুর থেকে আসা আফসার আলী বলেন, প্রতিবছর সিটিহাটে গরু নিয়ে এসে বিক্রি করি। এখানে ভালো দাম পাওয়া যায়। এবারও খামারের ১৪টি গরু নিয়ে এসেছি। দাম কিছুটা বাড়তি। দুপুরে মাঝারি আকারের দুটি গরুর মূল্য ১ লাখ ৭০ টাকা চাইলে বিপরীতে ক্রেতা দাম অনেক কম বলছেন। দামে মিল না হওয়ায় ওই গরু বিক্রি করা হয়নি।
সিটিহাটে কথা হয় মাসুদ রানা নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বুধবারেও আমি হাটে এসেছিলাম। সেদিন হাটে পশুর সংখ্যা কম ছিল। বেচাকেনাও জমে ওঠেনি। রোববার দুপুরে হাটে অনেক গরু দেখলাম। দুটি মাঝারি আকারের গরু কেনার জন্য মূল্য জানতে চাইলে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাম চান। একটি এক লাখ ও অপরটির এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বলা হলেও বিক্রি করেননি।
শফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, হাটে দুপুর ১২টায় ঢুকেছি। অনেকগুলো গরু দেখা হয়েছে। কিন্তু দাম বেশি চাচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত অনেক গরু দেখলাম। কিন্তু যে যা দাম বলছে এর নিচে আর কেউ নামছে না। তাই সন্ধ্যার দিকে হাট থেকে বের হয়ে চলে এসেছি।
আবু হানিফ নামের আরেক ক্রেতা বলেন হাটে গরু উঠলেও ব্যাপারীরা দাম হাঁকাচ্ছেন বেশি। তাই এখনও গরু কেনা হয়নি তার। তার মতো অন্য ক্রেতাদেরও একই অবস্থা।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে আসা গরুর ব্যাপারী ইকবাল হোসেন বলেন, আজ সিটিহাটে ২৬টি গরু নিয়ে এসেছি। তবে বিকেল পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। এগুলো এখানে বিক্রি নাহলে ঢাকায় নিয়ে চলে যাবো। গরুর খাদ্য থেকে সবকিছুর খরচ বেড়েছে। কমে বিক্রি হলে আমার লোকসান হবে। তাই কাক্সিক্ষত দাম না পেলে গরু বিক্রি করবো না।
ইজারাদার শওকত আলী বলেন, কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য হাট শতভাগ প্রস্তুত। হাটে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সঙ্গে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকও কাজ করছেন। গেল দুই হাটেই পশু ছিল অনেক। ইদের আগেই সব বিক্রি হয়ে যাবে। এজন্য বিক্রেতাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় খামার আছে ২৬ হাজার ২৩৪টি। এর মধ্যে গরু আছে এক লাখ চার হাজার ৮৪১টি, ছাগল আছে তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ও ভেড়া আছে ৪৩ হাজার ৪০৬টি। চার লাখ ৬৩ হাজার পশু থাকলেও চাহিদা তিন লাখ ৭১ হাজার।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতোয়ার জানান, হাটগুলো প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি হাটে আমাদের টিম আছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, গরুর হাটকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল নোট, মলম পার্টি, গরু টানাটানিসহ সব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।