রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

সীমান্তে আতঙ্ক : পদ্মায় মাছ ধরতে ভয় পাচ্ছেন চারঘটের জেলেরা

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট ২৫ মে ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট ২৫ মে ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন
সীমান্তে আতঙ্ক : পদ্মায় মাছ ধরতে ভয় পাচ্ছেন চারঘটের জেলেরা

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর থেকে রাওথা হয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। ভারতীয় জলসীমায় বাংলাদেশি জেলেদের দেখা গেলে গুলি করা হতে পারে এমন সতর্ককতা এবং ধাওয়া দেওয়ার ঘটনার পর থেকে সীমান্তে চারঘাটের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 


সরেজমিনে ইউসুফপুর, মোক্তারপুর, গৌ[শহরপুর, পিরোজপুর ও রাওথা এলাকায় কয়েকজন জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। 


ইউসুফপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার জেলে টোকন ও বিপ্লব জানান, সম্প্রতি পদ্মা নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে কয়েকটি ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই অনেক জেলে গভীর নদীতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।্ বিশেষ করে রাত ও ভোরবেলায় মাছ ধরতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। 


জেলেরা জানান, পদ্মা নদীতে মাছ ধরাই তাদের প্রধান জীবিকা। কিন্তু সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে এখন স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না। বাধ্য হয়েই আমরা এখন সীমানার মধ্যে নদীতীরবর্তী এলাকায় মাছ ধরছি। এতে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। 


এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। বিজিবি জানায়্র, সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি জেলেদের নিজ নিজ জলসীমার মধ্যে অবস্থান করে মাছ ধরার জন্য সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার জন্য পরামর্শ ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ইউসুফপুর ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার ইসমাইল হোসেন। 


গত ২১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এবিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সভায় জেলেদের নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 


বিজিবি’র সিও লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলেদের আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বিএসএফের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাবহত আছে। ইতোমধ্যে উভয় বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশি জেলেদের জিরো লাইন ক্রস না করে নিজ জলসীমানার মধ্যে থেকে নিরাপদে মাছ ধরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।