ইদে লোকশানের শঙ্কায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা
একদিন পরেই মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিবছর এসময় থাকে আমের জমজমাট বিকিকিনি। কোরবানির ইদ এগিয়ে আসায় এবার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকশানের আশঙ্কা করছেন। এই সপ্তাহে আমের দাম আরও নিম্নমুখি হয়েছে। হাটগুলোতে আম বিক্রির হলেও গেল বছরের তুলনায় এবার কম দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
চলতি বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে আমের চাষ হয়েছিল ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে। গেল বছরের মতো এবারও আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু গেল বছরে আমের দাম পাইনি চাষিরা। বাজারে দেখা মিলছে একসঙ্গে কয়েক জাতের আমের। তবে গত দুই বছরের তুলনায় মণপ্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত দাম কমেছে।
রাজশাহীর সর্ববৃহৎ আমের বাজার বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে। পুঠিয়া উপজেলা হলেও দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা, মোহনপুর, বাগমারাসহ সব উপজেলার আম মূলত বেচাকেনা হয় এই বানেশ্বর হাটে। এ হাটে রয়েছে কয়েকটি বিশাল মোকাম। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে পাঠানো হয় আম।
বানেশ্বর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গোপালভোগ গেল বছরের এসময়ে বিক্রি হয়েছিল ১৮০০-২০০০ টাকা মণে দরে। এবার ১৬০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ২০২৪ সালে এসময় বিক্রি হয়েছিল ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকায়। গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণে। গেল বছরেও এমন দাম ছিল। ২০২৪ সালে দাম ছিল ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ।
তবে এখনও বাজারে উঠেনি খিরসাপাত বা হিমসাগর আম। ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি আসবে আরও পরে। এছাড়াও আরও কিছু আম উঠবে ইদের। অনেক ব্যবসায়ী এখন আম গাছ থেকে নামাচ্ছেন না।
বানেশ্বর বাজারের আমের আড়তদার মো. আসাদুল্লাহ বলেন, গেলবারের মতো এবার আমের দাম কম। কোরবানি ইদের আগে সেভাবে আম বিক্রি হয়নি। আশা করা যায় ইদের পর থেকে বিক্রি বাড়বে। সে সময় আমের দামও বৃদ্ধি পারে।
বাঘা উপজেলা থেকে আম বিক্রি করতে এসেছেন আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, এবার আমের আকার ও স্বাদ বেশ ভালো আছে। কিন্তু ইদের আগে এবার আমের দাম নেই বললেই চলে। আমার গোপালভোগের পাঁচটি গাছের প্রায় ৬০ মণ আম নিয়ে এসেছি। এই আম গতবছরে ৩ হাজার টাকা মণে বিক্রি করেছিলাম। এবার তা ২ হাজার টাকা মণে বিক্রি করতে হবে। ইদের পর ল্যাংড়া আম নামাবো। তখন হয়তো দাম বাড়বে।
বানেশ্বর বাজারের আড়তদার শামিম জানান, অন্যান্য বছর মৌসুমের শুরুতে বাজারে যে পরিমাণ পাইকার থাকে, এবার তার অর্ধেকও নেই। কোরবানির ইদ থাকায় বাইরের মোকামগুলো থেকে পাইকাররা এখনো সেভাবে আসছে না। ইদের পরে হয়তো আমের বাজার চাঙ্গা হতে পারে।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাকির হোসেন সরকার বলেন, এবছর আমের উৎপাদন ভালো। কিন্তু কোরবানি ইদের কারণে ঠিকমত দাম পাচ্ছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ইদের জন্য রাজশাহীর বাইরের ব্যবসায়ীরা আম নিতে চাচ্ছেন না। ইদের পর হয়তো আমের দাম বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইদের পরে সব ধরনের আম পুরোদমে বাজারে নামবে এবং বাইরের পাইকারদের আনাগোনা বাড়বে। আশা করা যায় তখন বর্তমান মন্দাভাব কেটে যাবে এবং চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।