ঈশ্বরদীতে কোরবানির মাংস বিক্রির ক্ষণস্থায়ী হাটে মাংসের কেজি ৫৫০ টাকা
প্রতি বছরের মত এবারো পাবনার ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্থানে ও রেললাইনে বসেছিল ইদুল আজহার দুই দিনের মাংস বিক্রির হাট। এসব হাটে দানে পাওয়া কোরবানি দেওয়া পশুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিতে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে পৌর শহরের রেলগেট রেললাইনে, ফকিরের বটতলা ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রির এই ব্যতিক্রমী ক্ষণস্থায়ী মাংসের হাট জমে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোরবানির দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা দানের মাংস এবং কেউ কেউ ইদে ‘একদিনের কসাই’ হয়ে কাজ করে পারিশ্রমিক ও উপহার হিসেবে যে মাংস পেয়েছেন তা বিক্রি করতে এনেছেন এসব হাটে। যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই অথবা বাজার থেকে সচরাচর মাংস কিনে খেতে পারেন না তারা এসেছেন কমদামে এ মাংস কিনতে। বাজারের তুলনায় তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনতে এখানে ভিড় করেন নিম্নআয়ের মানুষ ও যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই তারা।
শহরের রেলওয়ে গেটের রেললাইনে মাংস বিক্রি করতে আসা আমির হোসেন জানান, ইদের দিন ও পরদিন কসাইয়ের কাজ করে তিনি প্রায় ৭ কেজি মাংস পেয়েছেন। এর মধ্যে বড়িতে রান্নার জন্য ২ কেজি রেখে বাকি মাংস বিক্রি করতে এখানে এসেছেন। স্টেশন রোডের ফকিরের বটতলায় মাংস বিক্রি করতে এসেছিলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইদে বিভিন্ন বাড়ি থেকে প্রায় ৬ কেজি মাংস সংগ্রহ করেছেন। এত মাংস সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় দুই কেজি রেখে বাকি মাংস বিক্রি করতে এসেছেন। এতে কিছু টাকা পাবেন যা দিয়ে সংসারের জন্য খরচ করতে পারবেন।
ফকিরের বটতলায় দানের মাংস বিক্রি করতে এসেছেন বেশ কয়েকজন নারী। তাদের মধ্যে রমেছা বেগম বলেন, সারাদিনে ৫ কেজির মতো মাংস সংগ্রহ করেছি। এতো মাংস রাখার জায়গা নেই- তাই বাড়িতে রান্না করার জন্য কিছু রেখে বাকি অংশ বিক্রির জন্য এখানে এসেছেন। ৫৫০ টাকা কেজিতে এ মাংস বিক্রি করেছেন তিনি।
মাংস কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা কেজি। সেখানে এই মাংসের হাটে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যেই মাংস পাওয়া যাচ্ছে। তাই পরিবারের চাহিদা মেটাতে তারা এখান থেকে কম দামে মাংস কিনছেন।
ঈশ্বরদী বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, এখানে মাংস কেনাবেচার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই কিছুটা উপকৃত হন। স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুর রহমান শহীদ বলেন, প্রতি বছর ইদের দিন ও পরদিন শহরের রেলগেট, ফকিরের বটতলা ও রেলস্টেশন এলাকায় এ ধরনের দানের মাংসের হাট বসে। এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই মূলত নিম্নআয়ের মানুষ।