রাজশাহীতে আম বাজারে দামে ধস
গেলবারের মতো এবারও ইদের পর আমের দামে ধস নেমেছে। ইদের আগে দাম নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন চাষিরা। হয়েছেও তাই। প্রতিটি জাতের আমের দাম একেবারে কমে গেছে। এতে চাষিদের খরচই উঠছে না।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর হাটে এখনো বেচাকেনা জমেনি। প্রতিদিন হাটে আমের সরবরাহ বাড়ছে। বিশেষ করে শনিবার থেকে হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত আম পাড়া শুরু হওয়ায় হাটে আমের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতা ও পাইকারদের উপস্থিতি কম।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে বানেশ্বর আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আম আসছে। কিন্তুকাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেকে বিক্রেতা। হাটে লক্ষণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০, গোপালভোগ ১২০০ থেকে ১৫০০, হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত ১৫০০ থেকে ১৮০০ ও গুটি জাতের আম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা চলছে।
আড়ৎদাররা জানিয়েছেন, গেল ২২ মে বাজারে প্রথম আসা গোপালভোগের দাম মণপ্রতি ২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে তা কমে ১২০০-১৫০০ টাকায় নেমেছে। গত ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি জাতের আমের দাম প্রথমদিকে ১০০০-১৪০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৪০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লক্ষ্মণভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গেল বছরও ইদের পর এই দামে বিক্রি হয়েছে আম। শুধু হিমসাগর আমের দামই বেশি।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ইদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন ও কুরিয়ার সেবা ব্যাহত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠানো বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে বাজারে চাহিদা কমে গিয়ে দামও নেমে এসেছে।
বাঘার আমচাষি বাবু বলেন, আমার প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমবাগান রয়েছে। বর্তমানে গুটি আম ৪০০-৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচই এই দামে উঠছে না। গেলবারের মতো এবারও লোকসান হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, কোরবানির ইদের কারণে মানুষ এখন মাংস নিয়ে ব্যস্ত। ফলে আম কেনার আগ্রহ কমেছে। বর্তমান বাজারদরে শ্রমিক, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ মিটিয়ে লাভ থাকছে না। কম দামে আম বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী ইসমাইল আলী বলেন, ইদের আগের বাজার বেশ ভালো ছিল। গোপালভোগের দামও বেশি ছিল। এখন হিমসাগর ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে এবার গোপালভোগের দাম পাওয়া গেল না। এবার দাম না পেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
বানেশ্বর হাটে গোপালভোগ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মিন্টু সরকার বলেন, গেল বছরের এই সময়ে গোপালভোগের দাম ছিল প্রায় ২২০০ টাকা মণ। এবার দাম অনেক কম। অন্য আমের দামও বেশ কম। গেল বছর ইদের পর দাম কমে গিয়েছিল। এবারও তাই হয়েছে।
হাটের ব্যবসায়ী সাগর বলেন, প্রতি বছর ইদের সময় আমের বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষ আম কিনতে শুরু করলে চাহিদা বাড়বে এবং পাইকারি বাজারও চাঙা হবে। ইদুল আজহার ছুটি শেষ হলে বাজার আবার স্বাভাবিক হবে।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাকির হোসেন বলেন, শনিবার থেকে হাটে আম বিক্রি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার হাটবার। আশা করা যায়- এদিন ব্যবসায়ীরা আসবেন আম কিনতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় অধিকাংশ মুকুল টিকে গেছে। ফলে উৎপাদন বেড়েছে ও বাজারে সরবরাহও বেশি রয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। কাটিমন ও বারি আম-১১ পাকার পর সারা বছর সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।