বজ্রাঘাত থেকে পরিত্রাণের বিজ্ঞানসম্মত সস্তা উপায়
মুক্ত আবহাওয়ায় বাতাসে প্রতি মিটার ব্যবধানে ১০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ ফিল্ড বিদ্যমান থাকে। বৈরি আবহাওয়ায় এটা বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার ভোল্ট হতে পারে। এমতাবস্থায়, আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখলে মাঠে-ঘটে-বাইরে না যাওয়াটাই উত্তম।
বিদ্যুৎ তিন উপায়ে আমাদেরকে আক্রমণ করতে পারে-সরাসরি আঘাত, ভূ-কারেন্ট (যা আঘাতপ্রাপ্ত গাছ-গাছড়া বা প্রাণী থেকে মাটিতে প্রবেশ করে চতুর্দিকে ছড়ায়), ও পার্শ্বঝলক (অদূরে আঘাতপ্রাপ্ত গাছ-গাছড়া ও প্রাণী থেকে বাতাসে ভেসে চতুর্দিকে ছড়ায়) সরাসরি বজ্রাঘাত থেকে রেহাই পেতে বসে পড়তে হবে।
একান্তই বাইরে যেতে হলে কোনো রকম সামান্যতমও ধাতব পদার্থের তৈরি জিনিসপত্র (যেমন-ছাতা, ঘড়ি, অলংকারাদি, খুচরা পয়সা, চাবির গুচ্ছ, চশমা, মাঠে জলযোগ বহনে থালা-বাসুন ইত্যাদি) সংগে রাখা যাবে না। যে কোনো ধাতব বন্তু বজ্রাঘাতের সহায়ক।
মাঠের কামলারা কার্বন-ইস্পাতের তৈরি কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি (যেমন-হাসুয়া, ছুরি, দা, দাউলি, লাংগলের ফাল, নাংগার খিল, কোদাল, খন্তা, কুড়াল, করাত, ইত্যাদি) ব্যবহার করবেন। কারণ কার্বন-ইস্পাতের তৈরি সরঞ্জাম লোহার তৈরি সরঞ্জাম থেকে প্রায় ৭০ ট্রিলিয়ন গুণ কম বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
বজ্রের পার্শ্ব-ঝিলিক ও ভূ-কারেন্ট থেকে বড় রকমের ক্ষতি এড়াতে সারি করে জমি নিড়ানী ও শস্য কাটার সময় আগে-পিছে হয়ে কাজ করতে হবে।
বজ্রের শংকা বুঝতে পারলে (শরীরে শিহরণ দ্বারা বা চুল খাড়া হওয়ার দ্বারা) সংগে সংগে মাটিতে লুটায়ে পড়তে হবে বিশেষ সেজদার অবস্থায়। দুই পা পরস্পরকে স্পর্শ করে, দুই হাঁটু পরস্পরকে স্পর্শ করে, দুই হাতের দুই-একটা আংগুল পরস্পরকে স্পর্শ করে, কপালটা আংগুলের উপর রেখে, কনুই দুটা উরুতে স্পর্শ করে। এমতাবস্থায়, বলতে গেলে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই একই ভোল্টেজে থাকে। তার ফলে তাদের মধ্যে কোনো বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটতে পারে না।
ফলে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। বাড়ির সবাইকে এই রকমের সেজদায় অভ্যস্ত হতে হবে। যখন সমস্যা হয় তখনকার জন্য ফেলে রাখলে সুফল হবে না। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, মাঠে-ঘাটে কর্মরত সবাই বজ্রের হাত থেকে বাঁচতে এর গত্যন্তর নাই। এই বিশেষ সেজদা পায়ের পাতা ও হাঁটুর মধ্যে (যা হয়তো ৩০-৪০ সেন্টিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ) শুধু ভোল্টেজের তফাৎ করে থাকে যা মারাত্মক হওয়ার কথা না।। খুবই উত্তম হবে যদি পায়ের পাতা ও হাঁটুর মধ্যবর্তী স্থান মাটির সংগে স্পর্শ করে রাখা যায়।
মাঠে-ঘাটে গরু-বাছুর, ছাগল চরানোর বা কাজে-কর্মে ব্যবহারের সময় তাদের শিং গেটেফলনের প্রলেপযুক্ত খোলস পরাতে হবে। আর এই প্রাণীদের ভেজা মুখ থেকে বজ্রাঘাত হ্রাস করাতে মুখে টেফলনের প্রলেপ যুক্ত মুখোশ পরাতে হবে। দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক বিধায় চার পা পরস্পরকে স্পর্শ করা অবস্থায় লেজটা গায়ের উপর বিছায়ে শুয়ে পড়ার অভ্যাস করাতে হবে।
টেফলনের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা যে কোনো ধাতু থেকে প্রায় ১০-৩০ অর্থাৎ ১,০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০ বা মিলিয়ন, ট্রিলিয়ন গুণ কম। আর শুকনো কাঠ থেকে প্রায় হাজার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ও ভেজা কাঠ থেকে প্রায় হান্ড্রেড বিলিয়ন কম। আর পলিস্টাইরিন থেকে প্রায় শত মিলিয়ন কম। (https://www.thoughtco.com/table-of-electrical-resistivity-conductivity-608499; https://www.bangslabs.com/sites/default/files/imce/docs/TSD% 200021%20Material%20Properties%20Web.pdf). প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা নির্ভর করে থাকে পদার্থের ক্রসসেকশন বা প্রস্থচ্ছেদ, দীর্ঘতা, ও তাপ মাত্রার উপর নির্ভরশীল। প্রস্থচ্ছেদের সংকীর্ণতা, ও নাতি দীর্ঘতা ও উত্তাপ বৃদ্ধি বিদ্যুৎ প্রবাহ হ্রাস করে থাকে।
মেঘের ঘনঘটা থাকলে জলাশয়ে বা তার আশেপাশে কাজ থেকে (যেমন-পাটকাটা, ধোয়া বা জাগ দেওয়া, মাছধরা, মাছের ঘেরে কাজ করা ইত্যাদি) বিরত থাকতে হবে।
বাড়ির অভ্যন্তরে রান্না-বান্না, ধোয়ামুছা, খানা-পিনার কাজে চাইনা-ক্লের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করতে হবে। টেফলনের আবরণযুক্ত কড়াই ধান সিদ্ধ ও পাক-সাকের কাজে ব্যবহার করতে হবে।বজ্রাঘাতে সময় উঁচ ুস্থানে, গাছের নীচে, বা ধাতুর তৈরি কোনো বেড়ার নিকট নিরাপদ ন্।া
টিনের চালের নীচে বাস না করে পাকা-ঘর কিংবা খোলার বা মাটির টাইলের তৈরি চালের নীচে বাস করতে হবে। টেফলনের আবরণযুক্ত পেরেক ব্যবহার করতে হবে। কলের লাঙ্গলে, ধাতব যান-বাহনেও রাস্তার যাত্রী ছাউনিতে টেফলনের প্রলেপ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার যদি সেজদায় পড়াকে জামায়াতের পন্থা মনে করেন তবে মারাত্মক রকমের ভুল করবেন। আর যদি বজ্রাঘাত থেকে দেশবাসীকে নিরাপদ রাখতে চেয়ে থাকেন তবে বিজ্ঞানসম্মত এই অভিভাবনগুলোকে অবহেলা করতে পারেন না।
সূত্র :ড. আদেল প্রকাশিত Physical Reasons and Mitigation Strategies for Increased Lightnings in Bangladesh †_‡K msM„nxZ file:///E:/Physical_Reasons_and_Mitigation_Strategies_for_Inc%20(1).pdf
লেখক: অধ্যাপক, পদার্থ বিজ্ঞান, আরকানছ বিশ্ববিদ্যালয়, পাইনব্লাফ।