রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

রাজশাহীতে বৃষ্টিতেও কমেনি ভ্যাপসা গরম

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ জুন ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ জুন ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বৃষ্টিতেও কমেনি ভ্যাপসা গরম

জৈষ্ঠ্যের মেঘ জমে বৃষ্টি নেমেছিল রাজশাহীতে। কিন্তু কাক্সিক্ষত সেই বৃষ্টিও বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রকৃতিতে স্বস্তি ফেরাতে পারেনি। উল্টো এক মিলিমিটারের সামান্য বৃষ্টিপাতের পর আকাশ মেঘলা থাকায় বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভ্যাপসা গরম। দিনভর গুমোট আবহাওয়ায় চরম অস্বস্তি, ক্লান্তি আর কষ্টে নাকাল হয়ে পড়েছে রাজশাহীর সাধারণ মানুষ।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৬ জুন) রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামান্য বৃষ্টি মাটিকে শীতল করার পরিবর্তে উল্টো উত্তাপ উসকে দিয়েছে।


শনিবার সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৪ শতাংশ, যা সন্ধ্যায় সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীর থেকে অনবরত ঘাম ঝরছে। বাতাসে গতিবেগ (ঘণ্টায় ১১ কিলোমিটার) থাকলেও তা ভ্যাপসা গরমের কারণে গায়ে লাগছে না।


নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, রেল স্টেশন ও লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায় তীব্র গরমে মানুষের ত্রাহি অবস্থা। ছাতা মাথায় দিয়ে বা গাছের ছায়ায় বসে অনেকেই ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন। দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।


শরীর ও মন জুড়াতে নগরীর ফুটপাত ও মোড়ের দোকানগুলোতে লেবুর শরবত, আখের রস ও আইসক্রিম খাওয়ার জন্য তৃষ্ণার্ত মানুষের ভিড় বাড়ছে। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব বরফ ও শরবত পানের কারণে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।


এই ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না অবলা পশুপাখিরাও। নগরীর পার্ক ও বরেন্দ্র অঞ্চলের গাছপালাগুলোতে চড়ুই, কাকসহ বিভিন্ন পাখিকে হাঁ করে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে। তীব্র গরমে অনেক পশুপাখিকে জলাশয়ের খোঁজে বা গাছের ঘন ছায়ায় নিস্তেজ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।