বাজেট নিয়ে রাজশাহীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিক্রিয়া
ঘোষিত নতুন বাজেট নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়াব্যক্ত করেছেন। এদের মধ্যে ঘোষিত নতুন বাজেট নিয়ে ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়াউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় এমন প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তিনি বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পদক্ষেপ রাখা হলে তা ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক হবে। রাজশাহীর মতো সম্ভাবনাময় অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প, রফতানি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর কাঠামো সহজীকরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হলে নতুন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। আমরা আশা করছি, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’
বাজেট নিয়ে ‘সন্তুষ্ট’ রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শাহ মো. মাইনুল হোসেন শান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা ইতিবাচক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী উভয়ই উপকৃত হবেন। রাজশাহীর আম, কৃষিপণ্য, কোল্ড স্টোরেজ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতের উন্নয়নে কার্যকর বরাদ্দ ও নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য করা এবং কর ব্যবস্থায় হয়রানি কমানো গেলে ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে প্রস্তাবিত বাজেটকে আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছি।’
বাজেট নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে নগরীর কয়েকজনের কাছে। এরমধ্যে নগরীর বাটার মোড় এলাকায় ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করা সুমন চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় বাজেট হয়, ধনীদের ধনী করা। আর গরিবদের আরও গরিব করা। বাজেটের পর ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এ জন্য আমাদের মতো গরিবদের জন্য বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা উচিত।’
রিকশাচালক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বাজেট কী এত কিছু বুঝি না। আমরা চাই জিনিসপত্রের দাম কম থাকুক। চাল, ডাল, তেল কিনতে যেন কষ্ট না হয়। দিন শেষে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতে পারলেই ভালো। বাজেটে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমে, তাহলে আমাদেরই উপকার।’
শ্রমজীবী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘কারখানায় কাজ করে যা বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। বাজেটে যদি জীবনযাত্রার খরচ কমানোর ব্যবস্থা থাকে, চিকিৎসা আর শিক্ষার খরচ কমে, তাহলে সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি আসবে।’
ভ্যানচালক খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাজেটের খবর টিভিতে দেখি, কিন্তু সব বুঝি না। আমার চাওয়া একটাই দৈনন্দিন খরচ যেন না বাড়ে। আয় তো আগের মতোই থাকে, কিন্তু বাজারের দাম বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।’
দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমার কোনও ভাবনা নেই। আজকে (বৃহস্পতিবার) কোনও কাজ পাইনি। আমার সংসার চলবে কীভাবে? সেই নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। তাই রাস্তায় রাস্তায় মানুষের কাছে অর্থ সহযোগিতা চাইতে হচ্ছে। কেউ দিচ্ছে। আবার অনেকে বলছে কাম-কাজ করতে পারো না। তখন তাদেরকে বলি আজকে কাজ পায়নি। তাই সহযোগিতা চাচ্ছি।’
কৃষক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট দিতে হবে। আর ঢাকায় বসে বাজেট করলে হবে না। তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের সুখ-দুখের কথা শুনে প্রত্যাশা অনুযায়ী গণমুখী বাজেট করতে হবে।’