সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

অটোচালকদের অতিরিক্ত ভাড়ার দাবি

সোনার দেশ ২১ জুন ২০২৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২১ জুন ২০২৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ন
অটোচালকদের অতিরিক্ত ভাড়ার দাবি

রাসিক কর্তৃপক্ষ আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারেন

নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের একটি অংশ একতরফাভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এই পরিস্থিতি নগরীতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নজরে আসলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তাতে ভাড়া বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য অটো রিকসাচাললকদের বিরত থাকার জন্য বলেন। একই সাথে সিটি করপোরেশন অতিরিক্ত ভাড়া যাতে আদায় না হয় সে ব্যাপারে তদারকিতেও নামে। 


রাজশাহী সিটি করপোরেশন ব্যাটারিচালিত অটোরিকসার লাইসেন্স দিয়ে থাকে। এর আগে সিটি করপোরেশন অটোচালকদের নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সর্বশেষ ২০২২ সালের  তারিখে নগরীতে বিভিন্ন রুটে অটোর ভাড়া নির্ধারণ করেছিল। ওই সময় সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তা এখনো বলবৎ আছে। মাঝে একবার রাসিক কর্তৃপক্ষকে অগ্রাহ্য করে চালকরা অটোর ভাড়া নিজেরাই নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশন সমর্থন না করায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। এমন অভিজ্ঞতা থাকার পরও অটোচালকরা একতরফাভাবে আবারো নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করে তা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় শুরু করে। যা ছিল নিয়মের ব্যত্যয় এবং অবৈধ। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালকরা কিংবা তাদের সংগঠন ভাড়া বৃদ্ধির জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাতে পারতো। তাদের দাবির সমর্থনে যুক্তি তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ ছিল- কিন্তু তারা সে দিকে না গিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার পথ বেছে নিয়েছে। ফলে তাদের দাবির যৌক্তিকতা যাত্রীদের সমর্থন লাভ করেনি। 


অনিয়ম করে বা গায়ের জোরে দাবির প্রতি সমর্থন আদায় করা যায় না। এর আগের অভিজ্ঞতা অটোচালকদের আছে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা উপেক্ষিত হয়েছে- যেটা হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল না। বরং চালকদের এটা গ্রাহ্য করা উচিৎ ছিল যে, তাদের মূল স্টেকহোল্ডার হলো যাত্রীরা। এমন কোনো উদ্যোগ নেয়া উচিৎ হবে না যাতে করে যাত্রীরাই তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। বস্তুত হয়েছেও তাই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কালে চালকরা যাত্রীদের সাথে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। বৈধ কর্তৃপক্ষকে উপেক্ষা করে ভাড়া বাড়ালে কোনোভাবেই যাত্রীদের কাছে গ্রহণযোগ হওয়ার কথা নয়। এ ছাড়াও কর্তৃপক্ষকে অগ্রাহ্য করাও অপরাধের সামিল। 


তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অটোচালক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসতে পারেন। চালকদের ভাড়া বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী হলে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। প্রয়োজন হলে দাবির যৌক্তিকতার ওপর গণশুনানিও করা যেতে পারে। রাজশাহী সিটি করপোশেন অটোচালকদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ নিতেই পারে।