মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

সান্তাহারে মিলল নকল টয়লেট ক্লিনার ও মানহীন টেস্টি স্যালাইন

আদমদীঘি প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আদমদীঘি প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪১ অপরাহ্ন
সান্তাহারে মিলল নকল টয়লেট ক্লিনার ও মানহীন টেস্টি স্যালাইন

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর এলাকায় নকল ওরস্যালাইন বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ও অনুমোদনহীন পণ্য জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নকল ওরস্যালাইন উদ্ধারে অভিযান শুরু হলেও পরে এক ব্যক্তির দুটি বাসভবনে অভিযান চালিয়ে নকল ব্র্যান্ডের টয়লেট ক্লিনার তৈরির উপকরণও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হামিদুল ইসলাম মেজর নামের এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই অভিযানে অনুমোদনহীন ‘টেস্টি’ স্যালাইন রাখার দায়ে ব্যবসায়ী দুলাল দেবনাথ-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে সান্তাহার বাজারে এসএমসি ওরস্যালাইনের আদলে তৈরি ১১ কার্টন স্যালাইন বিক্রির সময় এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। পরে তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের প্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে স্যালাইনের মোড়ক পরীক্ষা করে সেগুলো নকল বলে নিশ্চিত করেন।


এসএমসি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তি হামিদুল ইসলাম মেজরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সান্তাহার এলাকার কয়েকটি পাইকারি দোকানে আরও নকল স্যালাইন মজুত রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে রাতের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে এসএমসি প্রতিনিধিদল ও জেলা ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।


রাত ৮টার দিকে সান্তাহার শহরের মুজিবুর রহমান সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে নকল ওরস্যালাইন জব্দ করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হামিদুল ইসলাম মেজরের পৈতৃক বাড়ি সান্তাহার পৌর এলাকার পাথরকুটা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নকল ‘হ্যারপিক’ ব্র্যান্ডের টয়লেট ক্লিনারের বোতল, লেবেল ও তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।


এরপর সাহেবপাড়া এলাকার একটি রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টারে তার বর্তমান বাসায় অভিযান চালিয়েও নকল টয়লেট ক্লিনার তৈরির সরঞ্জাম ও বোতল-লেবেল উদ্ধার করা হয়। পরে নকল টয়লেট ক্লিনার তৈরি ও নকল ওরস্যালাইন সরবরাহের দায়ে হামিদুল ইসলাম মেজরকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা পণ্য ও তৈরির সরঞ্জাম ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।


এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সান্তাহার পুরাতন বাজার এলাকার পাইকারি মুদি ব্যবসায়ী দুলাল দেবনাথের একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৭৫ কার্টনে থাকা প্রায় ১৮ হাজার পিস বিএসটিআই অনুমোদনহীন ‘টেস্টি’ স্যালাইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুলাল দেবনাথকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা স্যালাইন সান্তাহার পৌর এলাকার বাইরে নিয়ে ধ্বংস করা হয়।


এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম রাজ বলেন, নকল স্যালাইন আটকের খবর পেয়ে তারা দ্রুত সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে স্যালাইন পরীক্ষা করে নকল বলে নিশ্চিত হন। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও নকল স্যালাইন উদ্ধারে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। তবে অভিযান শুরু হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে ও পুলিশের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলে তিনি দাবি করেন। অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগম এবং জেলা ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা জেসমিন বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


এ ঘটনায় নকল ওরস্যালাইন ও অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাতের পাশাপাশি একই ব্যক্তির বাসা থেকে নকল টয়লেট ক্লিনার তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।