বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

পাগলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে

সোনার দেশ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন
পাগলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে

দ্রুত জনভোগান্তি দূর করুন


নদীমাতৃক দেশে সড়ক যোগাযোগে একটি সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও নদী ‘মেরে ফেলার’ জন্য অনেক সময় দায়ী করা হয়ে থাকে সেতুকেই। সেখানে অবশ্যই যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ও অনিয়মের বিষয়টিও চলে আসে। তবে একটি সেতু পাল্টে দিতে পারে একটি লোকালয়ের গোটা জনজীবন। যেমনটি হয়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাগলা নদীর ওপর প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু সেতুর কাজ। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বর্ষাকে কারণ দেখিয়ে পাঁচ মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কাজ। এর আগেও তিন দফা কাজ বন্ধ হয়েছিল। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো বেইলি সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষ। ব্যবসায়ীদের ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে করে মানুষের মধ্যে বড় দুর্ভোগ নেমে এসেছে।


যেকোনো নির্মাণকাজে কিছু জনদুর্ভোগ থাকে এবং জনগণ তা মেনে নেয় সেই নির্মাণকাজ থেকে সুফল পাওয়ার আশায়। আর নির্মাণকাজে সময়সীমা বলেও একটি ব্যাপার রয়েছে। 


সোনার দেশের খবর অনুযায়ী, পল্লি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ১৭২.৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৫ টাকা। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৬০% কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন সেতুর পাশেই রয়েছে বহু পুরোনো একটি বেইলি সেতু। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিন বছর আগে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেতুর প্রবেশমুখে ইটের পিলার বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ১৯৯১-৯২ সালে বেইলি সেতু নির্মাণের সময় দুই একর ৬৫ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য আরও কিছু জমির প্রয়োজন হয়েছে। এ নিয়ে অন্তত ১৪টি পরিবারের বাড়ি উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনও তা শেষ হয়নি। ফলে সংযোগ সড়কের কাজও শুরু করা যাচ্ছে না। ২০২৩ সালের নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মার্চে কয়েক দফায় উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশপ্রাপ্তরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। এরপর থেকে পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে।


প্রশ্ন হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে কি সেতুর নির্মাণকাজ আদৌ সম্পন্ন হবে? আমাদের দেশে যেকোনো সরকারি প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা একটি বড় সমস্যা। এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে এ ধরনের বিলম্বের জন্য যথাযথ জবাবদিহি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তেমন নজির না থাকায় এমনটা ঘটেই চলেছে। আসল সমস্যা হচ্ছে জনগণের দুর্ভোগের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের গা না করা। তারা জনবান্ধব হলে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজটি যথাসময়ে শেষ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হতো।