বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬

নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে চিনের ‘জলবোমা’? চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫১ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫১ অপরাহ্ন
নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে চিনের ‘জলবোমা’? চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!
ছবি: সংগৃহীত

হিমালয় পর্বতমালা এখনও বয়সে তরুণ, অস্থির এবং প্রায়শই নিজের ভয়াল রূপ দেখিয়ে মানবজাতিকে স্তব্ধ করে দেয়। বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এক বিধ্বংসী হিমবাহ ধস ও আকস্মিক হরপাবানে একশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে বহু ভারতীয় পুণ্যার্থীও রয়েছেন।


প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচু থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর আর জলের দেওয়াল যেভাবে জনপদগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, তা কেবল নেপালের ক্ষয়ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আন্তর্জাতিক মহলের চোখ খুলে দিয়েছে আরও এক মারাত্মক বিপদের দিকে। আর সেই বিপদটি হল তিব্বতের মেদগে ভারত সীমান্তের ঠিক ওপরেই চিনের তৈরি করা দানবীয় ৬০,০০০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যাকে বিশেষজ্ঞরা আখ্যা দিচ্ছেন এক ভয়ঙ্কর “জলবোমা” হিসেবে।



নেপালের এই তাণ্ডব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ভূকম্পনপ্রবণ হিমালয় অঞ্চলে সামান্য ৪.৪ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন বা একটি সাধারণ হিমবাহ ভাঙার ঘটনাই কত বড় দুর্যোগের কারণ হতে পারে। তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো বা ভারতে যা ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত, তার নামচা বারওয়া বাঁকের ঠিক কাছেই চিন প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধটি নির্মাণ করছে। উদ্বেগজনক বিষয় হল, খোদ চিনের নিজস্ব ভূত্বাত্ত্বিক সমীক্ষায় ধরা পড়েছে যে প্রস্তাবিত এই মেদগ ড্যামটি একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূকম্পন ফাটলের ওপর গড়ে উঠছে। এমন একটি সংবেদনশীল ও ভঙ্গুর ভৌগোলিক অবস্থানে এত বিশাল জলরাশি আটকে রাখা যে কোনও দিন উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম এমনকি দূরবর্তী বাংলাদেশের জন্যও সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা।


নেপালের সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডিতে আরেকটি মারাত্মক বাস্তব সামনে এসেছে—তথ্য আদান-প্রদানের চূড়ান্ত অভাব। ভাটির দেশ হওয়া সত্ত্বেও চিন থেকে নেমে আসা এই প্রলয়ঙ্কর জলের কোনও আগাম সতর্কবার্তা পায়নি নেপাল প্রশাসন, যার ফলে বহু নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই একই আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত হচ্ছে।

চিন ও ভারতের মধ্যে কোনও সামগ্রিক জলবণ্টন চুক্তি না থাকায়, বর্ষার সময় হঠাৎ বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়া কিংবা শুষ্ক মৌসুমে নদীর জল আটকে রাখার মতো পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে ব্রহ্মপুত্রের গতিপ্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রকে। মেদগ বাঁধটিকে ভারতের বিরুদ্ধে ভূ-কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। নেপালের ধ্বংসলীলা তাই ভারতের জন্য কেবল একটি ভৌগোলিক বিপর্যয় নয়, বরং সীমান্তের ওপারে তৈরি হতে থাকা মহাবিপদের এক স্পষ্ট ও কঠোর সতর্কবার্তা।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন