বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ককে হত্যাচেষ্টার এক সপ্তাহ পর মামলা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১৩ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ককে হত্যাচেষ্টার এক সপ্তাহ পর মামলা

 পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্Ÿায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা ঘটনার এক সপ্তাহ পর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একই কমিটির যুগ্ম আহ্Ÿায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে। মামলায় বুদু ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন উপজেলা তরুণ দলের যুগ্ম সম্পাদক রাব্বি মালিথা, যুবদল নেতা সাহান হোসেন, বিএনপি নেতা নসু প্রামাণিক, আরিফ হোসেন ও মুকুল হোসেনকে।


ঘটনার এক সপ্তাহ পর বুধবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন হামলার শিকার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাতজনকে আসামি করা হয়। জানা গেছে, শরিফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রওনা দিয়ে মামলা দায়ের করার জন্য ঈশ্বরদীতে আসেন। বাড়ি থেকে থানায় আসার আগে তিনি ওসি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ থানার পুলিশ ও অন্তত: ১৫-২০ জন সাংবাদিকদের থানায় আগে থেকে উপস্থিত থাকার জন্য মুঠোফোনে ‘অনুরোধ’ করেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি আগের দিন থেকে ‘মামলা করতে থানায় আসছি’ বলে ব্যাপক প্রচারনা চালান। পরে তিনি অর্ধশত লোকজনসহ মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসময় ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন ও প্রায় ২০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে শরিফের ভাষ্য তার জীবন নিয়ে শঙ্কা ছিল তাই আগে থেকে সবাইকে জানিয়ে দলবল নিয়ে তিনি থানায় আসেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এ বিষয়ে বলেন, মামলা দায়ের করার আগে এভাবে জানান দিয়ে থানায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ লোকজন বসিয়ে রেখে মামলা করার ঘটনা নজিরবিহীন। থানায় উপস্থিত একাধিক সাংবাদিকরাও বলেন, এভাবে মামলা করতে আসার ঘটনা তারা আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি।

    

জানা গেছে, গত ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা বাজার থেকে প্রাইভেট কার চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন শরীফ। এসময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটর সাইকেলে এসে তার গাড়ির সামনে এসে পথরোধ করে গুলি চালায়। গাড়ির গ্লাস ভেদ করে বুলেট তার চোয়াল ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।


আহত শরীফের দাবি, হামলাকারীদের তিনি চিনতে পেরেছিলেন। তার দাবি স্বেচ্ছাসেবক দলের একই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদু হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। অন্য কারও নির্দেশে অর্থের বিনিময়ে তারা হামলা চালিয়েছেন। শরীফের এ দাবি মিথ্যা দাবি করে বিপুল হোসেন বুদু বলেন, ‘ঈশ্বরদীর মানুষ আমাকে ও আমার পরিবার সম্পর্কে খুব ভালো করে জানেন। রাজনৈতিক জীবনে হামলার মতো কর্মকান্ডে আমার জড়িত থাকার কোন নজির নেই, শরিফের ওপর হামলার প্রশ্নই ওঠে না। রাজনৈতিক বিরোধেউদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ মামলায় আমার নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, যা সুষ্ঠু তদন্তে প্রমাণিত হবে।


ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, আলোচিত এ ঘটনার রাত থেকেই আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। বুধবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।