মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

নির্মম প্রতিশোধে শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধার ভারতের

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন খেলা
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন
নির্মম প্রতিশোধে শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধার ভারতের

দাপুটে ব্যাটিং, কার্যকর বোলিং। ভারত যেন মাঠে নেমেছিল ব্যবধান বুঝিয়ে দিতেই। আসরের প্রথম ম্যাচ থেকে একের পর এক প্রতিপক্ষকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠা দলটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও পাত্তা দিল না শ্রীলঙ্কাকে। গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটে-বলে পর্যদুস্ত করে আবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে জায়গা করে নিল হারমানপ্রিত কৌরের দল।


উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জিতে নিল ভারত। ১০ আসরের ৮টিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করল তারা।


গত এশিয়া কাপের পর দুই দলের ছয় টি-টোয়েন্টির সবকটিই জিতেছিল ভারত। তবু গতবারের ফাইনালে হারের ঘা দগদগেই থাকার কথা। শিরোপা হারানোর ম্যাচ বলে কথা! অবশেষে এবারের জয়ে প্রলেপ পড়বে গতবারের বেদনার ক্ষতে।


দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। দুই ওপেনারের ফিফটি ও রেকর্ড গড়া জুটিতে ২০ ওভারে তোলে তারা ১৮৩ রান।


৩৯ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন শেফালি। পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ২৪ বলে। নারী এশিয়া কাপের ইতিহাসে যা দ্রুততম ফিফটি। এই রেকর্ডে শীর্ষ পাঁচের তিনটিই তার।


ধীরগতির শুরুর পর পুষিয়ে দিয়ে মান্ধানা করেন ৩৯ বলে ৫৮।


দুজনের জুটিতে আসে ১২৯ রান। উদ্বোধনী জুটিতে তো বটেই, এশিয়া কাপে যে কোনো জুটিতেই রেকর্ড এটি।


এই রান লঙ্কানদের নাগালের বাইরেই ছিল। রান তাড়ায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই তারা গড়তে পারেনি। ১১১ রানে শেষ হয় ইনিংস। ভারতীয়রা পাঁচটি ক্যাচ না ছাড়লে ব্যবধান বড় হতে পারত আরও।


চারটি উইকেট শিকার করেন ভারতের এই সময়ের সবচেয়ে ধারাবাহিক স্পিনার শ্রী চারনি, তিন উইকেট নেন টি-টোয়েন্টির সফলতম বোলার দীপ্তি শার্মা।


রেকর্ড গড়া ফিফটির পর এক উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দা ফাইনাল শেফালি। আসরে ১৭১ স্ট্রাইক রেটে ২৩৬ রান করে ও দুটি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরাও তিনিই।


গতবারের ফাইনালের মতোই টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর টসের সময় বলেন, বড় রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চান তারা। সেই লক্ষ্যে দলকে এগিয়ে নেন শেফালি। শুরুতে ছন্দ পেতে একটু সময় নেন মান্ধানা। মূলত শেফালির ব্যাটেই ৫ ওভারে ৫৫ রান তুলে ফেলে ভারত। কাভিশা দিলহারির বলে বাউন্ডারিতে ফিফটি হয়ে যায় শেফালির। ২২ বছর বয়সী ক্রিকেটারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি এটি।


২৫ রান করতে মান্ধানা বল খেলেন ২৪টি। এরপর চামুদি প্রাবোদাকে লং অন দিয়ে উড়িয়ে তিনি খোলস ছেড়ে বের হন। এরপর দুই প্রান্ত থেকেই চলতে থাকে রানের জোয়ার।


মান্ধানার ফিফটি আসে ৩৫ বলে। জুটির রান একাদশ ওভারে একশ পেরিয়ে এগিয়ে যায় আরও।


এশিয়া কাপে উদ্বোধনী জুটিতে আগের রেকর্ড ১২২ ছাড়িয়ে যান দুজন। যে কোনো জুটির রেকর্ড ১২৮ রান পেরিয়েই থেমে যায় জুটি। প্রাবোদার বলে কাভারে ধরা পড়েন শেফালি।


পরের ওভারে সঙ্গীর পথ ধরেন মান্ধানাও। হারমানপ্রিতের সঙ্গে বাজেভাবে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন তিনি।


আর স্রেফ ৮ রান করলেই সুজি বেটসকে পেরিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়ে যেত মান্ধানার। তবে সেই রেকর্ড পেরিয়ে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার অনেক সময় তার পড়েই আছে।


তখন মনে হচ্ছিল, দুইশ ছাড়িয়ে যাবে ভারতের রান। তবে জুটি ভাঙার পর কিছুটা কমে আসে রানের গতি। হারমানপ্রিত ১৪ রান করেন ১৪ বল খেলে। রিচা ঘোষের চার ও ছক্কায় আবার প্রাণ ফেরে ব্যাটিংয়ে। তবে এই কিপার-ব্যাটার ফেরেন ১৭ রানে। দুইশ দূরে যেতে থাকে ক্রমেই।


এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ১৮০ রানও কঠিন হবে। তবে ইনিংসের শেষ দুই বলে চার ও ছক্কায় দারুণভাবে শেষ করেন গুনালান কামালিনি। আসরে প্রথম খেলতে নামা ১৮ বছর বয়সী ব্যাটার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই করেন ৫ বলে ১৫।


এই মাঠে ১৪২ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির নেই নারী টি-টোয়েন্টিতে। ইতিহাস গড়তে হলে বিস্ফোরক ইনিংস প্রয়োজন ছিল চামারি আতাপাত্তুর ব্যাটে। কিন্তু লঙ্কান অধিনায়ক তা পারেননি। অন্য ব্যাটারদের তো আসলে এই ম্যাচের দাবি মেটানোর সামর্থ্যই নেই।


ইনিংসের প্রথম বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করা ইমেশা দুলানি আউট হয়ে যান চতুর্থ বলেই। আতাপাত্তুর রান এক পর্যায়ে ছিল ১৪ বলে ৭।


তার ব্যাট থেকে পরে বিশাল দুটি ছক্কা ও চারটি বাউন্ডারি আসে বটে। তবু ইনিংসকে খুব গতিময় করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৩৬ করে স্টাম্পড হন দীপ্তি শার্মার বলে। জুটিতে ৫৩ বলে রান আসে ৫৮।


ওই ওভারেই দীপ্তি বোল্ড করে দেন ভিশমি গুনারাত্নেকেও (২২ বলে ২০)। এরপর ছিল কেবল ম্যাচ শেষ হওয়ার অপেক্ষা। নিলাকশিকা সিলবা ১৬ বলে ২২ রান করলেও অন্য কেউ আর দু অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।


এশিয়া কাপ শেষে এশিয়ান ক্রিকেটের আরেকটি লড়াই দেখা যাবে সামনেই এশিয়ান গেমসে। সেখানে নারী ক্রিকেটের লড়াই শুরু এই বৃহস্পতিবার থেকেই।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৮৩/৫ (মান্ধানা ৫৯, শেফালি ৬৮, হারমানপ্রিত ১৪, রিচা ১৭, দীপ্তি ৫, ফুলমালি ২*, কামালিনি ১৫*; মিথালি ৪-০-৩৩-১, কাভিশা ৩-০-২৯-০, সুগান্দিকা ৪-০-৩১-০, আতাপাত্তু ৪-০-৩৪-১, প্রাবোদা ৪-০-৪০-১, নিলাকশিকা ১-০-১৫-০)


শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১১১ (ইমেশা ৪, আতাপাত্তু ৩৬, ভিশমি ২০, হার্শিথা ৯, নিলাকশিকা ২২, কাভিশা ৭, হাসিনি ১, কৌশিনি , সুগান্ধিকা ১, ; ক্রান্তি ২-০-৮-১, নান্দিনি ৩-০-১৭-০, শেফালি ৪-০-২৩-১, শ্রী চারনি ৪-১-২০-৪, দীপ্তি ৪-০-১৯-৩, প্রেমা ৩-০-২২-১)।


ফল: ভারত ৭২ রানে জয়ী।

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।

প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট: শেফালি ভার্মা।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ