শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

আবার ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

সোনার দেশ ডেস্ক ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন খেলা
সোনার দেশ ডেস্ক ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
আবার ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়
বাংলাদেশের ব্যাটাররা পারেননি লড়াই জমাতে। ছবি: এসিসি।

একবার, দুবার নয়, চার চারবার জীবন পেলেন শেফালি ভার্মা। এরপর যা হওয়ার, হলো তা-ই। ভারতের ওপেনার খেললেন ঝড়ো ইনিংস। দল পৌঁছে গেল দেড়শর কাছে। সেই স্কোর তাড়া করার শক্তি তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নেই। অভাবনীয় কিছু তারা করতেও পারেনি। অনুমিতভাবেই ভারতের কাছে পাত্তা না পেয়ে আবারও সেমি-ফাইনালেও শেষ নিগার সুলতানার দলের পথচলা।


দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছিলেন, সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান তারা। গ্রুপে রানার্স হওয়ায় সেই এড়ানো হয়ে ওঠেনি। নিগারের দল পারেনি চমকপ্রদ কোনো গল্প লিখতে। ৪০ রানের জয়ের উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।


দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের ১৪৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ আটকে যায় ১০৯ রানে।

গত এশিয়া কাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।


৬ ও ১১ রানে জীবন পেয়ে শেফালি ফিফটি করেন ৩৫ বলে। এরপর রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান আবার। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৪০ বলে ৬৪ রান করে। ২২ বছর বয়সেই তার টি-টোয়েন্টি ফিফটি হয়ে গেল ২০টি! ৭ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসের পর চার ওভার আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।


টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই শুরু করে ক্যাচ ছাড়ার পালা। সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির ক্যাচ ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন।

ওই ওভারেই অবশ্য ধরা দেয় প্রথম উইকেট। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়েন ভারতের সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা।


ভারতকে আরও চাপে ফেলা যেত পরের ওভারেই। কিন্তু মারুফা আক্তারের বলে এবার শেফালির ক্যাচ ছাড়েন নাহিদা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটার এর খেসারত বুঝিয়ে দেন পুরোপুরি। পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি সুলতানাকে।


আরেক পাশে প্রাতিকা রাওয়াল একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও খুব গতিময় হতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষে নাহিদা, ফাহিমা, রাবেয়াদের স্পিনে ভারতের রানের গতি যায় কমে। টানা চার ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এর মধ্যেই প্রাতিকা (৪ বলে ২০) ফেরেন রাবেয়ার বলে।


১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৫৯। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মারুফার বলে টানা দুটি বাউন্ডারিতে রানের গতিতে আবার দম দেন শেফালি। অধিনায় হারমানপ্রিত নেমেও ভুগছিলেন রান করতে। তবে শেফালির ব্যাটে ছুটতে থাকে ভারত। সুলতানাকে টানা তিন বলে এক ছক্কা দুই চার মেরে পরের বলে আবার বড় শটের চেষ্টায় শেষ হয় তার ইনিংস।


এরপরও ভারতকে আবার চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারলে তো! রিচা ঘোষের ক্যাচ নিতে না পেরে ছক্কা বানিয়ে দেন ফাহিমা। এই কিপার-ব্যাটার পরে ছক্কা মারেন আরেকটি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।


হারমানপ্রিতের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৮ বলে ৬। পরে দুটি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে দীপ্তি শার্মার ব্যাট থেকেও আসে ছক্কা ও চার।


শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯০ রান।

দেড়শ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। ম্যাচ জমিয়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ছিল শুরুতে দ্রুত রান। কিন্তু হয় উল্টো। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২৬।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটি উইকেট মেডেন নেন ভারতের এই সময়ের সবচেয়ে ধারাাহিক বোলার শ্রী চারনি। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসকে আউট করে। ১৮ বল খেলে বাংলাদেশের ওপেনার করতে পারেন কেবল ১৪ রান।


আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে করেন মোটে ২১ রান।

ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। পরের ব্যাটাররাও পারেননি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। তিনে নেমে সোবহানা মোস্তারি ১৮ রান করতে বল খেলেন ২৪টি। একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও অধিনায়ক নিগার ১৭ বলে করেন ১৯।


স্বর্ণার ১৮ বলে অপরাজিত ২২ রান দলকে কোনোরকমে একশ পার করায়। কিন্তু রান তাড়ায় একবারও মনে হয়নি, জয়ের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের।

দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে শুক্রবার লড়বে পাকিস্তান ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (মান্ধানা ২, শেফালি ৬৪, প্রাতিকা ২০, হারমানপ্রিত ২৪*, চিরা ২১, দীপ্তি ১৩, ফুলমালি ০; মারুফা ৪-০-৪০-১, সুলতানা ৩-০-৩০-২, নাহিদা ৪-০-২৫-১, রাবেয়া ৪-০-২২-১, ফাহিমা ৪-০-২১-০, স্বর্ণা ১-০-১০-০)

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (জুয়ায়রিয়া ১৪, দিলারা ২১, সোবহানা ১৮, নিগার ১৯, স্বর্ণা ২২*, শারমিন ১, ফাহিমা ১৪, রাবেয়া ০; ক্রান্তি ২-০-১৩-০, নান্দিনি ২-০-১০-২, শ্রী চারনি ৪-১-১৪-১, শেফালি ৪-০-২৫-০, প্রেমা ৪-০-২১-১, দীপ্তি ৪-০-২৬-৩ )।

ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী।

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ