বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

৮০ লাখের বিনিময়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে তিন বছরের ফুটফুটে মেয়ের!

সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৩ অপরাহ্ন
৮০ লাখের বিনিময়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে তিন বছরের ফুটফুটে মেয়ের!

কন্যা পণের (ওয়ালওয়ার) বীভৎস রূপ পাকিস্তানে। ২৫ লক্ষ পাকিস্তানি রুপির বিনিময়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকন্যার সঙ্গে ৬০ বছের এক বৃদ্ধের বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ মেয়েটির বাবা আব্দুল বাকীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে অভিযুক্ত স্বামী (যাকে ৬০ বছর বয়সী সালাহ উদ্দিন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে) এখনও পলাতক।


পুলিশের দাবি, বিষয়টিতে তারা যখন হস্তক্ষেপ করে, তখন ওই বিয়ে কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল, কারণ কন্যা পণের পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।


পাকিস্তানে ওয়ালওয়ার বা কন্য়া পণ প্রথা চালু আছে। এক্ষেত্রে, বরের বাড়ির তরফে মেয়ের পরিবারকে টাকা দিতে হয়। তারপরই বর কনেকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারে। বালুচিস্তানে, মূলত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত প্রত্যন্ত উপজাতীয় জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই  ‘ওয়ালওয়ার’ প্রথা এখনও চালু আছে। 


মেয়েটির বড় বোনের হত্যার সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র

এই বিয়ের বিষয়টির সঙ্গে মেয়েটির ১৩ বছর বয়সী বোন শুকরিয়া বিবির সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। পুলিশের মতে, মেয়েটির বাবা আব্দুল বাকী এর আগে ‘কন্যা পণ’ হিসেবে ১৫ লাখ পাক রুপির বিনিময়ে তাঁর বড় মেয়ে শুকরিয়ার সঙ্গে সালাহ উদ্দিনের ছেলে কামরানের বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। বিয়ে সম্পন্ন হয় ভালভাবেই। পুলিশের অভিযোগ, পরবর্তীতে বাকী তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়েকে ২৫ লাখ রুপির বিনিময়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে দিতে সম্মত হন।


তদন্তকারীরা জানান, এরপর সালাহ উদ্দিন দাবি করেন যে আব্দুল বাকী যেন তাঁর আরেক মেয়ে আট বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ের জন্য পাঠান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ হয় বলে জানা গিয়েছে। শুকরিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই বিরোধের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।


শুকরিয়াকে হত্যা মামলায়  তার স্বামী কামরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, কামরান তদন্তকারীদের জানিয়েছে যে, দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকানোর কারণে সে রেগে গিয়ে লোহার রড দিয়ে ১১ বছরের শুকরিয়াকে মেরেছিল। তাতেই প্রাণ হারায় মেয়েটি।


তিন বছর বয়সী ওই শিশু ‘বাব্বো’ এবং তার মাকে পুলিশের সুরক্ষায় রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ সালাহ উদ্দিনের সন্ধান চালাচ্ছে।


বালুচিস্তানের আইন কী বলে? ‘বেলুচিস্তান শিশু বিবাহ নিরোধ আইন, ২০২৫’-এ বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনে শিশু বিবাহকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পুলিশকে এ ধরনের ঘটনার তদন্ত ও পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। শিশু বিবাহে জড়িত থাকার দায়ে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দুই থেকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ থেকে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।


পাকিস্তানে শিশু বিবাহ এখনও একটি বড় সমস্যা। ২০১৭-১৮ সালের ‘পাকিস্তান ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে’-র তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীমহিলাদের মধ্যে ১৮.৩ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। অন্যদিকে ৩.৬ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়সের আগেই।


ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রায় ২ কোটি ৫ লক্ষ মহিলা ও কিশোরীর বিয়ে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষের বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন