বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আইসের অভিযানে গরুর মাংসের সরবরাহ ব্যাহত

সোনার দেশ ডেস্ক ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৮ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে আইসের অভিযানে গরুর মাংসের সরবরাহ ব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওকলাহোমা ও কানসাসে অভিবাসনবিরোধী অভিযান গরুর মাংসের সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির গবাদিপশু শিল্পের সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, এতে হাজার হাজার গরু পরিবহন বিলম্বিত হচ্ছে এবং কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি ও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।


এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে গরুর মাংসের দাম আরও বাড়তে পারে।


২৪ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে কানসাস লাইভস্টক অ্যাসোসিয়েশন, ওকলাহোমা ক্যাটলমেনস অ্যাসোসিয়েশন ও টেক্সাস ক্যাটল ফিডার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কার্যক্রম কৃষি এলাকাগুলোতে শ্রমিক সংকট তৈরি করছে।


সংগঠনগুলোর দাবি, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত হাজার হাজার গরু আটকে যাওয়ায় বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ফিডইয়ার্ড, দুগ্ধ খামার, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাতেও শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে।


আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ শতাংশ গ্রাউন্ড বিফের গড় দাম ছিল প্রতি পাউন্ড ৬ দশমিক ৯২ ডলার। উচ্চ মাংসের দাম নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও চাপের মুখে রয়েছে।


গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দেশটির আটটি বড় খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বিচার বিভাগ।


তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নিউজউইককে জানিয়েছে, কানসাসে আইস কোনো কর্মস্থলভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে না। সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত এবং চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


অন্যদিকে, কৃষি সংগঠনগুলো বলেছে, তারা অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য সরকারের দায়িত্ব স্বীকার করে। তবে হঠাৎ শ্রমিক সংকট তৈরি হলে প্রাণীকল্যাণ, ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে গরু জবাই হয়েছে আনুমানিক ৯০ হাজার। এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার।


শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিবাসন অভিযান কানসাসের ডজ সিটি ও লিবার্টের মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোতে শ্রমিক উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছে। এতে গরু সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।


গবাদিপশু শিল্পের সংগঠনগুলো অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনসম্মত, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ এবং নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে।


তথ্যসূত্র: নিউজউইক, বাংলানিউজ