বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

প্রথম ধাপে মিয়ানমারের ১,৪৭৬ শরণার্থী ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৭ অপরাহ্ন
প্রথম ধাপে মিয়ানমারের ১,৪৭৬ শরণার্থী ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই ১ হাজার ৪৭৬ মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে মালয়েশিয়া।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়া হয়।


এটি আরও বড় একটি প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। এতে পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হতে পারে।


ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী এবং ২৭ জন শিশু রয়েছে। মালয়েশিয়া বলছে, তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সম্মতিপত্রে সই করেছেন।


তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, কারা ফিরছেন—তাদের বাছাই বা যাচাই প্রক্রিয়ায় সংস্থাটি যুক্ত ছিল না।


ইউএনএইচসিআরের মতে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ফেরার উপযোগী নয়।


মানবাধিকার সংগঠনগুলোও আশঙ্কা করছে, ফেরত যাওয়া ব্যক্তিরা সংঘাত, নিপীড়ন বা জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এর আগে ১৬০টির বেশি নাগরিক সংগঠন মালয়েশিয়াকে রোহিঙ্গা ও অন্য শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।


মালয়েশিয়া সরকার মঙ্গলবার ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের জাতিগত পরিচয় বা সবার শরণার্থী মর্যাদা প্রকাশ করেনি। ফলে তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।


মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এখনো নাজুক। সোমবার রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে আরাকান আর্মি ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, দেশটি অনির্দিষ্টকাল শরণার্থীর চাপ বহন করতে পারে না এবং মিয়ানমারকে পর্যায়ক্রমে নিজের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে।


তথ্যসুত্র: বিবিসি, বাংলানিউজ