আমেরিকায় গিয়ে তিন গুজরাতি অপহৃত, এক কোটির মুক্তিপণ চেয়ে ফোন বাড়িতে
‘অবৈধ’ পথে আমেরিকায় যাওয়ার সময় ‘অপহৃত’ তিন ভারতীয়! তিন জনই গুজরাতের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে খবর, আমেরিকায় ওই তিন জনের আত্মীয়পরিজন থাকেন। তাঁদের কাছে যাওয়ার জন্যই রওনা হন গুজরাত থেকে। তবে মাঝপথে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। কোনও যোগাযোগ ছিল না পরিবারের সঙ্গে। এখন তাদের দাবি, ইথিওপিয়ায় ওই তিন জনকে অপহরণ করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের দাবি করে ফোনও এসেছে। তিন ভারতীয়কে উদ্ধারের ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছে ওই পরিবার।
ওই তিন ভারতীয়ের পরিচয় জানা গিয়েছে। তিন জন গুজরাতে তিন ভিন্ন জায়গায় থাকলেও একে অপরের পরিচিত। তিন জনই একই পরিবারের। তাঁরা হলেন রুতভিক জানসারি, তাঁর জেঠুর মেয়ে মমতা চাভড়া এবং আর এক আত্মীয় ময়ূরী। রুতভিক মেহসানার ভাদসমা গ্রামের বাসিন্দা। মমতা বর্তমানে অহমদাবাদে থাকেন। আর ময়ূরী থাকেন গাঁধীনগরে।
পরিবারের দাবি উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ওই তিন জন ২০ সেপ্টেম্বর এজেন্টের মাধ্যমে আমেরিকায় যাত্রা করেন। তবে তাঁর দু’দিন পর থেকে আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মমতার বাবা কিরিতভাই চৌহন জানিয়েছেন, আমেরিকায় পাঠাতে ইতিমধ্যেই প্রত্যেকের জন্য এক জন এজেন্টকে ৭০ লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন। তার পরেই তিনি অপহরণের দাবি করেন।
কিরিতভাইয়ে দাবি, ইথিওপিয়ায় পৌঁছোনোর পর তিন জনকে অপহরণ করে বন্দি করা হয়েছে। অপহরণকারীদের ফোন এসেছে। মুক্তিপণ বাবদ এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকায় ওদের পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যেই আমরা অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছি। আমাদের কাছে এখন আর কিছু নেই। আমরা অসহায়। ওদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।’’ রুতভিকের দাদাও মুক্তিপণের দাবির প্রসঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। একই সঙ্গে বর্ণনা করেছেন নিজেদের অসহায়তা কথাও। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই নাকি অপহরণকারীদের ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক কোটি টাকা না-দিলে তিন জনকে ছাড়বে না বলে জানিয়েছে অপহরণকারীরা।
মেহসানা জেলার এক পুলিশ আধিকারিক এএম গহলৌত জানান, মঙ্গলবার মমতার বাবা একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। তিনি অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, মমতার স্বামী চিরাগ কুমার প্রায় মাস ছয়েক আগে স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় যান। মমতা তাঁর স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য বার কয়েক ভিসার আবেদন করেন। কিন্তু প্রতি বারই আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন মমতা। মার্কিন ভিসা না-পাওয়ায় এজেন্টের শরণাপন্ন হয় পরিবার। অবৈধ পথে মমতার আমেরিকা যাত্রার বন্দোবস্ত করেছিল তারা।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন