বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে নারী বন্দি

সোনার দেশ ডেস্ক ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৪ অপরাহ্ন
প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে নারী বন্দি
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে রয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। তার হৃদস্পন্দন চলতে থাকায় পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।


বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাকে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তার হৃদস্পন্দন চলছিল বলে জানিয়েছে তার আইনজীবী দল।


মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ই পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করে প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। তাদের আবেদনে বলা হয়, পাইক অচেতন হয়ে পড়েছেন, কিন্তু তার হৃদস্পন্দন তখনও চলছিল এবং তার নাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।


পাইককে হাসপাতালে ‘জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা’ দেওয়া হচ্ছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন তার এক আইনজীবী। আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার পরই তারা আদালতের হস্তক্ষেপ চান।


১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইককে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হয় এবং প্রত্যেকবারই সাক্ষীদের কক্ষের পর্দা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয় বলেও জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি।


পাইকের আইনজীবীরা ‘দ্য টেনেসিয়ান’ পত্রিকাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, টেনেসি কর্তৃপক্ষ আবারও আইনসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পাইকের শিরায় ওষুধ প্রবেশ করাতে সমস্যা হয়েছিল, কয়েকটি শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ব্যবহৃত পেন্টোবারবিটালের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ার পরও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ করেন তারা।


এরপর পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জরুরি আবেদন করেন। জেলা বিচারক ক্লিফটন এল. কর্কার এক আদেশে উল্লেখ করেন, আবেদনে চাওয়া অনুযায়ী চিকিৎসাকর্মীরা ইতোমধ্যে পাইককে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন।


তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভাগের মুখপাত্র ডোরিন্ডা কার্টার ‘দ্য টেনেসিয়ান’কে বলেন, রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অনুমোদিত প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নিয়মের প্রতিটি ধাপই অনুসরণ করা হয়েছে।


কার্টারের দাবি, ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধটি অতীতে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কোনো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ক্রিস্টা পাইককে পরে একটি হাসপাতালের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


এদিকে এমরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ জোয়েল জিভট, যিনি পাইকের আইনজীবী দলের হয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার মতে পাইকের শরীরে পেন্টোবারবিটালের প্রয়োজনীয় মাত্রা রক্তে পৌঁছায়নি। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়া এবং হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম থেমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে তার ধারণা।


তথ্যসূত্র: বিবিসি, জাগোনিউজ