শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন

সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৫ অপরাহ্ন
হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন

হরমুজ প্রণালীতে দুই মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি সুপারট্যাংকারে সমুদ্রের তলদেশে পাতা মাইন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী। তারা জানায়, ‘অননুমোদিত’ একটি পথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় এ ঘটনা ঘটে।


ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই আঘাতের ফলে জাহাজটিতে এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

তারা অভিযোগ করেছে, তেলবাহী ট্যাংকারটি তাদের ট্র্যাকিং এবং রাডার সিস্টেম বন্ধ করে রেখেছিল।

তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

আইআরজিসির নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে।

’ তারা আরও যোগ করেছে, মার্কিন সমর্থনের ওপর ভরসা করে যারা ইরানি নিয়মকানুন লঙ্ঘন করবে, সেই সব জাহাজকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে ইরান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যম প্রেস টিভি একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে।


আইআরজিসির সরবরাহ করা এই ফুটেজে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক মাইন আঘাত করার পর একটি সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে।


অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ১২টি হামলার কথা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ঘটনা ঘটেছে হরমুজ প্রণালীতে, একটি পারস্য উপসাগরে ও একটি ওমান উপসাগরে।


আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে ৬টি তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছে অথবা বন্দরে পৌঁছাতে পেরেছে। একটি জাহাজ সাগরে তলিয়ে গেছে এবং দুটি জাহাজ সম্পূর্ণ অকেজো ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এই পর্যালোচনায় জানানো হয়, বাকি তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


ইউকেএমটিও সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা হামলার প্রকৃত সংখ্যা বের করতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ আক্রান্ত জাহাজগুলোর অধিকাংশই তাদের ওপর হওয়া হামলার তথ্য এই সংস্থাকে জানাতে অস্বীকার করছে। অন্যান্য মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য সবসময় যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।


সংস্থাটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের যাতায়াত যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ কম। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহজে জাহাজ চলাচলের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বাংলানিউজ