শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন। শুক্রবার এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।


জর্জিয়ার ডালটনে জমায়েত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ থাকলে শুধু মোহাম্মদ বলে ডাকুন। আপনার সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। ‘হ্যালো, মোহাম্মদ।’ আমি বছরের পর বছর এটা করছি। আমি কখনও ভুল হইনি।


মুসলিমদের মধ্যে ছেলেসন্তানের নাম হিসেবে মোহাম্মদ সবচেয়ে প্রচলিত নামগুলোর একটি। ইসলামের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামানুসারে অনেকে সন্তানের নাম রাখেন।


ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিবইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব


আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন ট্রাম্প। ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না। এরপর তিনি মোহাম্মদ নামের বেশ কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, তা জিজ্ঞেস করার ভান করেন। ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের এ রসিকতায় জর্জিয়ার জনতার সাড়া ছিল সামান্য।


মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো বারবার ট্রাম্পের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, তার বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় ও উপহাস করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার সময় এ ধরনের বক্তব্য আরও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে তার আক্রমণ তীব্র হয়েছে। তার নিশানায় রয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিনিধি ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।


সমাবেশে ট্রাম্প আবারও প্রতিজ্ঞা করেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, যার একটি লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পঙ্গু করে দেওয়া।


এ বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ার জন্য আংশিকভাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন ও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে দায়ী করা হয়েছে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন