বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

মান্দায় হাট উন্নয়নের নামে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ

মান্দা প্রতিনিধি ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
মান্দা প্রতিনিধি ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৬ অপরাহ্ন
মান্দায় হাট উন্নয়নের নামে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ

নওগাঁর মান্দায় হাটবাজার উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। দুটি হাটের উন্নয়নে বরাদ্দ ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৭২৪ টাকার বিপরীতে বাস্তবে সামান্য কিছু কাজ দেখা গেলেও প্রকল্পের পুরো বিল ছাড় করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আরও গুরুতর অভিযোগ, প্রকল্পের সভাপতি করা হলেও কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না দুই ইউপি সদস্য। তাঁদের দাবি, কেবল কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার বিনিময়ে তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলীর দাবি, কাজ সঠিকভাবে শেষ হওয়ায় অর্থ ছাড় করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুন্নত হাটের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা ১০ শতাংশ অর্থ থেকে উপজেলার মৈনম ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের জন্য ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৯ জুলাই উপজেলা হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় মৈনম ইউনিয়নে চারটি এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।


মৈনম হাটে স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপনে ৩ লাখ টাকা, দুটি পৃথক সেড নির্মাণে ৬ লাখ টাকা এবং নালা ও আবর্জনা পরিষ্কারে ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অন্যদিকে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সিংগীহাটে টয়লেট ও প্রস্রাবখানা নির্মাণে ২ লাখ টাকা, সিংগীহাট থেকে ফকিরপাড়া গ্রামের দুটি সড়ক নির্মাণে ৪ লাখ টাকা, স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপনে ৩ লাখ টাকা এবং নালা পরিষ্কারে ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই ইউনিয়নের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৭২৪ টাকা।


সরেজমিনে মৈনম হাট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আটটি খুঁটির ওপর একটি সেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং দুটি নতুন স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। হাটের অন্য কোথাও বরাদ্দ অনুযায়ী দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ চোখে পড়েনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, সেড নির্মাণ ও দুটি স্ট্রিট লাইট স্থাপনে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তবে ব্যয়ের এই হিসাবের পক্ষে তিনি কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।


মৈনম হাটের দুটি সেড নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য সুদেব চন্দ্র ও আমজাদ হোসেন। প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে সুদেব চন্দ্র বলেন, কাজ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। শুধু কাগজপত্রে তাঁর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চেয়ারম্যান তাঁকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেন আমজাদ হোসেন। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের সভাপতি হওয়ায় তাঁকে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


অন্যদিকে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সিংগীহাটে একটি টয়লেট ও প্রস্রাবখানা নির্মাণ, দুটি স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং গ্রামের ভেতরে নিম্নমানের ইট দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণের কাজ দেখা গেছে। হাটের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থে গ্রামের ভেতরে সড়ক নির্মাণের যৌক্তিকতা এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


অভিযোগের বিষয়ে মৈনম ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। কাঁশোপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালামও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, হাট দুটির কাজ সঠিকভাবে শেষ হওয়ায় প্রকল্পের সভাপতিদের অনুকূলে অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।


তবে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজ, বরাদ্দের পরিমাণ এবং প্রকল্পের সভাপতিদের বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, অনুমোদিত কাজের কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ ছাড়ের আগে যথাযথ যাচাই করা হয়েছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।