শিবগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার দুই ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজ উদ্দিনের দুই ছেলেকে ষড়যন্ত্র করে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং পরিবারের হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন থেকে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। তবে মাদক উদ্ধারে কোনো ধরনের আইনি ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করেছে র্যাব।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বজলার রহমান সনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আরিফ আলী টিসুসহ অন্যরা। এ সময় মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আজ মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। আমি, আমার সন্তান কিংবা পরিবারের কেউ কখনো মাদক সেবন, ব্যবসা বা মাদকের সঙ্গে জড়িত নই। অথচ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাজানো ঘটনায় আমার এক ছেলেকে আটক করে হেরোইনসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক ছেলেকেও একই মামলায় আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলার রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে এ পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে মফিজ উদ্দিনের দুই ছেলেকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আরিফ আলী টিসু দাবি করেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের র্যাবের যৌথ দল মফিজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি আমবাগানের খড়ের ঘরে অভিযান চালায়। সেখানে ৬ কেজি ৭.৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের পর মফিজ উদ্দিনের এক ছেলেকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক এবং পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মানববন্ধনে কোনো প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করা হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, শ্যামপুর এলাকায় একটি কুচক্রী মহল বা সোর্সের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য বিভাগে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। ঘটনার রাতে তাঁকে নিজ ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ডেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্য ছেলে মো. আল মামুন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আল মামুন রাজশাহীতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রায় ১০০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তাঁরা বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে র্যাব-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়সাল ইশতিয়াক বলেন, হেরোইন উদ্ধারের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। নিয়ম মেনেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে দুই ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করে র্যাবের বক্তব্যের পাশাপাশি পরিবারের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ যাচাই চান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হোক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।