ব্রাজিলে নির্বাচন : ৪৪ লাখ ভোটে হার: ট্রাম্পের মিত্র বললেন, ‘ফলাফল মানি না’
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফল চ্যালেঞ্জ করেন তিনি, যদিও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঠিক একইভাবে ব্রাজিলের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারার পর ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্পের মিত্র ফ্লাভিও বলসোনারোও।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তবে এই ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও ডানপন্থি সিনেটর বলসোনারো।
ব্রাজিলের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, শতভাগ ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত বলসোনারো ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগে সময় বাড়িয়ে নির্বাচনের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে ব্রাজিলের নির্বাচনি আদালতের প্রধান বলেছেন, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
লুলার জয়, ট্রাম্পের প্রভাবের জন্য ধাক্কা?
লুলার এ জয় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি নেতাদের নির্বাচনি সাফল্য দেখা গেছে।
কিন্তু ব্রাজিলে লুলার জয় সেই ধারার বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি।
ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কট্টর সমালোচক লুলা ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও নিজের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছেন তিনি।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে লুলা বলেন, ব্রাজিল কারও ‘পেছনের আঙিনা’ হয়ে থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ‘হয় দেশ স্বাধীন থাকবে, নয়তো আমরা ব্রাজিলের জন্য প্রাণ দেব।
’ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের মাত্র তিন মিনিট আগে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন ভোটের সময় আরও দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেন।
দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল।
সাও পাওলো ও সালভাদর শহরে ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়ার বাস চলাচল নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছিল লুলার শিবির। এসব শহরে সাধারণত লুলার সমর্থন বেশি।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে অসুবিধা হচ্ছিল। ওই অঞ্চলে বলসোনারোর সমর্থন বেশি।
সময় বাড়ানোর কারণে ভোট গণনা শুরু হতে দুই ঘণ্টা দেরি হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পর কতটি ভোটকেন্দ্র খোলা ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
ফল বাতিলের দাবি বলসোনারোর
ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, নির্বাচনের মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।বিচারপতি জানিন একসময় লুলার আইনজীবী ছিলেন—এ বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বলসোনারোর ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব।
তবে শুধু ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর কারণে নির্বাচনের ফল বাতিল হবে কি না, তা অনিশ্চিত। ফল বাতিলের জন্য অনিয়মের কারণে ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্স ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জোয়াও পেদ্রো পাদুয়ার মতে, নির্বাচনের ফল বাতিলের আবেদন করার সুযোগ বলসোনারোর রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে শক্ত আইনি ভিত্তি খুব বেশি নেই।
তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো অস্বাভাবিক হলেও শুধু এ কারণে নির্বাচন বাতিল করা যায় না। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে হবে।
তথ্যসূত্র: এপি, জাগোনিউজ