জন্মের মুহূর্তেই একরাশ ঘন গোঁফ! নবজাতককে দেখে আঁতকে উঠলেন ডাক্তাররাও
সদ্যোজাত এক শিশুর ঠোঁটের ওপরে একরাশ ঘন গোঁফ—এমনই এক অবিশ্বাস্য ভিডিও ঘিরে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল হইচই। ইকুয়েডরের বলে দাবি করা এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রবল বিস্ময় ও হাসির রোল। একরত্তি শিশুর মুখে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এমন গোঁফ দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। তবে এমন দৃশ্য দেখার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সত্যি কি কোনও শিশু এমন গোঁফ নিয়ে জন্মাতে পারে?
চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। চিকিৎসকদের মতে, মাতৃগর্ভে থাকার সময় শিশুদের শরীরে ‘ল্যানুগো’ (lanugo) নামে এক ধরনের অত্যন্ত মিহি ও নরম লোম গজায়। সাধারণত প্রসবের আগেই বা জন্মের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই রোম প্রাকৃতিকভাবে ঝরে যায়। অনেক সময় নবজাতকদের পিঠে, কাঁধে, কানে কিংবা মুখের কিছু অংশে সামান্য এই রোম দেখা গেলেও তা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বর্ণহীন হয়। চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, ল্যানুগোর পক্ষে কোনওভাবেই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এমন গাঢ়, ঘন ও পরিপাটি গোঁফের রূপ নেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন বিরল ঘটনার কোনও নির্ভরযোগ্য নজিরও মেলে না। ফলে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে চিকিৎসকমহল যথেষ্ট সন্দিহান।
তবে বৈজ্ঞানিক যুক্তি যাই বলুক, নেটদুনিয়ার রসিকতা কিন্তু থামার নাম নিচ্ছে না। শিশুটির ছবি নিয়ে রীতিমতো মিমের বন্যা বয়ে গেছে সমাজমাধ্যমে। কেউ শিশুটির শরীরে এডিটিংয়ের মাধ্যমে সামরিক উর্দি পরিয়ে নাম দিয়েছেন ‘সুপ্রিম লিডার’, তো কেউ আবার বিজনেস স্যুট আর চুরুট গুঁজে দিয়ে বানিয়েছেন কর্পোরেট বস। ভিডিও গেমের বিখ্যাত চরিত্র ‘মারিও’ কিংবা প্রাচীন যোদ্ধার বেশেও হাজির করা হয়েছে তাকে। কমেন্ট বক্সেও চলছে দেদার মস্করা।
এক ইউজার লিখেছেন, শিশুটি বোধহয় স্কুল জীবন বাদ দিয়ে সরাসরি মিডলাইফ ক্রাইসিসে ঢুকে পড়েছে। অন্য এক নেটিজেন রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন, জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই ও অবসর নিয়ে ফেলেছে, যেন তিন সন্তানের বাবা এবং মাথায় দুটো হোম লোনের বোঝা চেপে রয়েছে। আবার কেউ লিখেছেন, পৃথিবীতে আসার মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যেই নবজাতকটি যেন তার ৯টা-৫টার চাকরি নিয়ে চূড়ান্ত তিতিবিরক্ত। বাস্তব আর কৃত্রিমতার টানাপোড়েনের মাঝে এই একরত্তির ‘গোঁফ’ আপাতত গোটা বিশ্বের নেটিজেনদের এক অনাবিল হাসির খোরাক জুগিয়ে চলেছে।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন