বগুড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২০ শয্যার ইউনিটে রোগী ৩১ ভর্তি
বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। নতুন করে ৪৮ জন আক্রান্ত হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও হাসপাতালসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় নতুন করে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নির্ধারিত ইউনিটে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। ২০ শয্যার ইউনিটে রোগী রয়েছেন ৩১ জন। রোগীর চাপ সামলাতে ইউনিটের বাইরের খোলা জায়গাতেও অতিরিক্ত শয্যা বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু সন্দেহভাজন ও শনাক্ত রোগীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আগে সাধারণ ওয়ার্ডে রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও চাপ বেড়ে যাওয়ায় করোনাকালে প্রস্তুত করা আইসিইউ ইউনিটকে সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১০ শয্যার ওই ইউনিটের সক্ষমতা বাড়িয়ে ২৪ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইউনিটের বাইরের বারান্দার মতো খোলা জায়গাতেও শয্যা বসিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ওই স্থানে বৈদ্যুতিক পাখা না থাকায় রোগীদের সুবিধার্থে পাখা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩১ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ, ১২ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বগুড়ায় মোট ১ হাজার ৬০৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫০৭ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন। তাঁদের দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শজিমেক হাসপাতাল। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৫ জন এবং শজিমেক হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া শেরপুর উপজেলায় আটজন ও ধুনট উপজেলায় ছয়জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বেসরকারি টিএমএসএস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচজন।
বর্তমানে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৩১ জন, শজিমেক হাসপাতালে ২৯ জন এবং টিএমএসএস হাসপাতালে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলার অন্যান্য হাসপাতালেও রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বগুড়া শহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একদিকে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে তৈরি হচ্ছে শয্যাসংকট। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্তদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।