নাইজেরিয়ার বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত বেড়ে ৬২
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
তারাবা রাজ্যে এ হামলা ঘটে। রাজ্যটিতে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান লাদান আয়ুবা মঙ্গলবার বলেন, এ হামলায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া শাখা জানায়, শুক্রবার তারাবার বিন্নারি গ্রামে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। তারা ঘরবাড়ি, দোকানপাট, খাদ্যসামগ্রী ও মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশ সতর্ক করেছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তারাবা পুলিশের মুখপাত্র ভিক্টর শেলিজা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, আমাদের লোকজন এখনও ঘটনাস্থলে আছেন। যত বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হবে, আমরা তা হিসাবে যুক্ত করবো।
১৫ বছরেরও বেশি আগে বোকো হারাম সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করার পর থেকে নাইজেরিয়া নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলার শিকার হচ্ছেন বেসামরিক মানুষ। মুক্তিপণের জন্য তাদের অপহরণও করা হয়।
আটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে যা জানা গেলোআটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে যা জানা গেলো
এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়া বলেছে, বেসামরিক মানুষকে রক্ষায় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ অপর্যাপ্ত। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তরের কিছু অংশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীদের দয়ার ওপর ছেড়ে দিচ্ছে, যারা বারবার দায়মুক্তি নিয়ে নৃশংসতা চালাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও বলে, এ হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের দিক থেকে এসব ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানিয়ে গতানুগতিক বিবৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়।
নাইজেরিয়ায় অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠী অবৈধ খনি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। এসব কার্যক্রমের মুনাফায় তারা আরও অস্ত্র কিনতে ও সদস্য নিয়োগ করতে পারছে, ফলে তাদের ক্ষমতা বেড়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএসএস) মতে, এ পরিস্থিতির কারণে সারা দেশে ও বৃহত্তর সাহেল অঞ্চলে অস্ত্র চোরাচালান ও সহিংসতা বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন