রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬

জার্মানিতে তরুণদের বিক্ষোভের পর রাতে সহিংসতা, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকান লুট

সোনার দেশ ডেস্ক ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ন
জার্মানিতে তরুণদের বিক্ষোভের পর রাতে সহিংসতা, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকান লুট

শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে জার্মানির ৩২টির বেশি শহরে তরুণদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর রাতে কয়েকটি শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় ফ্রাঙ্কফুর্টে।



সেখানে মুখোশধারী একদল ব্যক্তি দোকানে পণ্য লুট করে। পুলিশের ওপরও ইট, পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করা হয়।

এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) জেন জি রেগেল্ট নামের সংগঠনের ডাকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেন তরুণরা।

তাদের দাবির মধ্যে ছিল– শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধ করা। দিনের কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

অধিকাংশ শহরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। আগামী ২০ নভেম্বর আবারও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।


ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকান লুট

জার্মানির সংবাদমাধ্যম হেসেনশাওয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্টের শপিং সেন্টার এলাকা জাইলে একদল মুখোশধারী কয়েকটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন দোকানের কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা জুতা ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে যায়। একটি অস্ত্রের দোকানেও হামলা চালানো হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রের দোকান থেকে দুটি অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান শপিং সেন্টার সড়ক জাইল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। রাতে শহরটিতে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটকের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তখনো জানানো হয়নি।


এর আগে বিক্ষোভের পর রাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের দাবি, একদল ব্যক্তি ইট, পাথর, বোতল ও আতশবাজি দিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।


আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্পর্ক নেই

জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্টে রাতে দোকানপাটে হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে দিনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্ক থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছোট ছোট কয়েকটি দল এসব হামলায় অংশ নেয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। হামলাকারীরা মূল বিক্ষোভের অংশ ছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আয়োজক সংগঠন জেন জি রেগেল্ট শুরু থেকেই সহিংসতামুক্ত কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বিভিন্ন শহরে বাম উগ্রপন্থি দলের কিছু সদস্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।


কোলনেও সংঘর্ষ

ফ্রাঙ্কফুর্টের পাশাপাশি কোলনেও রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের প্রধান রেলস্টেশন ও বিখ্যাত ক্যাথেড্রাল এলাকা ঘিরে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডব্লিউডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পর রাতে কয়েকটি ছোট গ্রুপ শহরের দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে ভাঙচুরে জড়ায়।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ