সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬

প্রবল চাপে ওমর আবদুল্লা, জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি শাসক দলেরই ২৫ বিধায়কের!

সোনার দেশ ডেস্ক ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০২:০৯ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০২:০৯ অপরাহ্ন
প্রবল চাপে ওমর আবদুল্লা, জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি শাসক দলেরই ২৫ বিধায়কের!
জম্মু ও কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।

এবার ঘরের অন্দরেই প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরে ওমর আবদুল্লা। ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি)  ২৫ জন অসন্তুষ্ট বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীকে ১৪ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলেই সরকারের উপর থেকে তাঁরা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।


বিধায়করা সতর্ক করেছেন যে, যদি দলের হাইকমান্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না করে, তবে তাঁরা রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন। ‘বিদ্রোহী’ বিধায়করা সরকারের আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান সব মন্ত্রীকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণ করা।


২৫ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের দাবি কী কী?

- প্রধান দাবি হল, ১৪ দিনের মধ্যে বর্তমান সব মন্ত্রীকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এছাড়া, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন।


- ‘বিদ্রোহী’রা স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল গুটিকয়েক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর না করে, পুরো আইনসভার দলীয় সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।


- বিধায়করা দলের আদর্শগত অবস্থান এবং নির্বাচনী ইস্তেহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা চান, সরকার যেন ৩৭০ ধারা, ৩৫-এ ধারা এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সুরক্ষা কবচ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আরও জোরালো অবস্থান নেয়।


- ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী এসব বিষয়ে কোনও ধরনের আপস মেনে নিতে নারাজ। তাঁরা চায়, সরকার যেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।

১৪ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নেতৃত্ব যদি সুনির্দিষ্ট কোনও পদক্ষেপ না করে, তবে বিধায়করা রাজভবনে গিয়ে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন।


আগা রুহুল্লাহ পদত্যাগ ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংকট আরও বাড়াল:

এই বিদ্রোহের পাশাপাশি ন্যাশনাল কনফারেন্স আরও একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, শ্রীনগরের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদি পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। রুহুল্লাহ জানিয়েছেন যে, আগামী ৩রা নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং লোকসভার সদস্যপদ- উভয় থেকেই পদত্যাগ করবেন। তিনি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আদর্শগত অবস্থান থেকে সরে আসার এবং নির্বাচনের সময় জনগণের কাছ থেকে পাওয়া জনরায় রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনেছেন। বিশেষ করে, ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট কার্যকর হওয়া সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে প্রতিশ্রুতি দল দিয়েছিল, তা থেকে দল পিছিয়ে এসেছে বলে তিনি প্রবল সমালোচনা করেছেন।


দলের বাইরে থেকে তাঁর এই সমালোচনা এবং ২৫ জন বিধায়কের মধ্যে অসন্তোষ- এই দুই দিক থেকেই ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতৃত্ব চাপের মুখে পড়েছে।

ওমর আবদুল্লার সরকার কী এই বিদ্রোহ সামলাতে পারবে?

২৫ ‘বিদ্রোহী’ বিদায়কের সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকির খবর ৯০ সদস্যবিশিষ্ট জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


ন্যাশনাল কনফারেন্সের ৪১ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদি ২৫ জন বিধায়ক ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন, তবে সরকারের প্রতি দলের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যার ফলে বিধানসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, নির্দলবিধায়ক ও অন্যান্য মিত্রদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও উমর আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


আবদুল্লা নেতৃত্বের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল- দলীয় বিধায়কদের অসন্তোষ প্রশমিত করা, ‘বিদ্রোহী’দের দাবিগুলো পূরণ করা এবং দলের ভেতরে বিভাজন ঠেকানো।


১৪ দিনের আল্টিমেটাম এবং ৩রা নভেম্বর রুহুল্লাহর পদত্যাগের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে, আগামী দিনগুলো ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং ওমর আবদুল্লা সরকারের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন