শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬

বাঘায় মার্কিন ও জাপানি ব্র্যান্ডের ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ তৈরির নকল কারখানার পণ্য পুড়িয়ে ধ্বংস

বাঘা প্রতিনিধি ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বাঘা প্রতিনিধি ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
বাঘায় মার্কিন ও জাপানি ব্র্যান্ডের ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ তৈরির নকল কারখানার পণ্য পুড়িয়ে ধ্বংস

বাঘায় মার্কিন ও জাপানি ব্র্যান্ডের ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ তৈরির নকল কারখানার পণ্য জব্দ করে জনস্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যার নেতৃত্বে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের  জেলা তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজালপুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে কারখানার তৈরি পণ্য, পণ্য তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করে জনস্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। 


জানা গেছে, পণ্য তৈরির বোতলের গায়ে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত আর বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ময়নসিংহের ভালুকা লেখা ছিল। আরেকটির গায়ে রয়েছে জাপানি কোম্পানির নাম আর উৎপাদনের সিরিয়ালে লেখা যুক্তরাষ্ট্রের নাম। এভাবে দেশি-–বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাদ্য পরিপূরক ভিটামিন বা ওষুধ) তৈরির একটি কারখানায় বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাঘা-আড়ানী সড়কের তেঁথুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কারখাানার এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর সাথে কারখানায় সিলগালা করা হয়। 


পরের দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যার নেতৃত্বে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল হোসেন পুলিশের সহায়তায় কারখানা খুলে তৈরি পণ্য, পণ্য তৈরির সরঞ্জামসহ মালামাল জব্দ করে জনস্মুখে পুড়িয়েধ্বংস করা হয়। 


কারখানাটি নাটোরের রেজাউল করিম উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাঘা-আড়ানী সড়কের তেঁথুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি বাড়িটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নকল ওষুধ তৈরি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই কারখানার প্রায় দুই ট্রাক ওষুধ মাঠে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আরও তিন ট্রাক সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। 


এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান অনন্যা  বলেন, যে রকম দামের একেকটি প্যাকেট পাওয়া গেছে, তাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের নকল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় দুই ট্রাক মাঠে পোড়ানো হয়েছে। বাকিটা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা এখানে এসেছেন। তিনি দেখছেন, নিয়মিত মামলা করা যায় কি না।


তিনি আরও বলেন, বুধবার আটক নয়জনের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 


জরিমানার রশিদে সই করেছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু সৈয়দ হোসেনের ছেলে খালিদ হাসান। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪১ ধারায় এই জরিমানা করা হয়। সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন দুই শ্রমিক নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষ্মীকুল গ্রামের দিলু মিয়া ও হাসমত। অন্য ছয় শ্রমিকের বাড়িও নাটোরে।


ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল বলেন, এত ওজনের একটা যন্ত্র নিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি যন্ত্রটি অকেজো করে দিয়েছেন।এরা মস্ত বড় প্রতারক। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশি দামি কোম্পানির ব্র্যান্ড নকল করে এখানে ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করে। এগুলোর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তিনি বলেন, মোড়কে বা কৌটার গায়ে সরাসরি ওষুধ না লেখার কারণে তারা মামলা করতে পারছেন না। কিন্তু অনুমোদন না থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।


এসব ওষুধ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়। অনলাইনের মাধ্যমে মূলত এই ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। কারখানায় তার কয়েকটি নমুনাও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত প্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির মালিক হায়দার আলী চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তাঁর ভাই শামীম ও মা রিনা বেগম বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোরের রেজাউল করিম মাসে আট হাজার টাকা ভাড়ায় বাড়িটি নেন। তবে বাড়ির ভেতরে কী ধরনের কাজ চলত, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।


শামীম হোসেন বলেন, রেজাউল করিম ‘নাটোর ভেষজ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি বাড়ির মালিকের কাছে জমা রেখেছিলেন। লাইসেন্সটি নাটোরের খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে নেওয়া হয়েছে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত। ফোন  বন্ধ থাকার কারণে রেজাউলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।