রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফসলের প্রকৃত চাহিদায় হচ্ছে না সার বরাদ্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফসলের প্রকৃত চাহিদায় হচ্ছে না সার বরাদ্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদিত হয়। মাষকলাইয়ের ডাল ও গম উৎপাদনেও জেলাটি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আখ, সরিষা, ভুট্টা ও ধানের আবাদ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন ফল ও ফসলের চাষ বাড়ছে। তবে এসব ফসলের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সার বরাদ্দ হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


জেলার কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে সরকারি দরে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বাজারে বেশি দাম দিলেই সার মিলছে। কোথাও সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাতাহাতি, কোথাও মধ্যরাত থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা ঘটছে।


সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ১০ বছরেও চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ পাননি জেলার কৃষকরা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি– এই চার ধরনের সারের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৮৭ হাজার ৪৩৩ টন। বরাদ্দ হয়েছিল ৬৬ হাজার ৬০ টন, যা চাহিদার চেয়ে ২৪ শতাংশ কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৬১১ টন চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয় ৬৬ হাজার ২২৪ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক লাখ ২৪ হাজার ৪৩১ টন চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যায় ৭০ হাজার ৬৩১ টন, যা চাহিদার চেয়ে ৪৩ শতাংশ কম।


২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় সারের চাহিদা বেড়ে দুই লাখ ১১ হাজার ৫৮৫ টন হলেও বরাদ্দ হয় ৯৯ হাজার ৮৮৬ টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৫৩ শতাংশ কম সার বরাদ্দ দেওয়া হয়।


২০২৪-২৫ অর্থবছরে চাহিদা আরও বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টন। এর বিপরীতে কৃষকরা পান চাহিদার মাত্র ৩৬ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় সারের চাহিদা পাঠানো হয় দুই লাখ ৯৮ হাজার ১৯৫ টন। বরাদ্দ আসে মাত্র ৯৮ হাজার ৮৩২ টন।


চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে এক লাখ ১৪ হাজার ৮৭৩ টন সারের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৩৩৬ টন। ফলে চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ ঘাটতি ১৩ হাজার ৫৩৭ টন।


এবার ইউরিয়া সারের চাহিদা ৪২ হাজার ৭৪৯ টন, বরাদ্দ ৩৯ হাজার ১০৩ টন। টিএসপির চাহিদা ৯ হাজার ৫৪০ টন, বরাদ্দ সাত হাজার ৮৪০ টন। ডিএপির চাহিদা ৪০ হাজার ৩৯৩ টন, বরাদ্দ ৩৪ হাজার ৫৮০ টন। এমওপির চাহিদা ২২ হাজার ১৯১ টন, বরাদ্দ ১৯ হাজার ৮১৩ টন।


বিসিআইসি ডিলারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) জেলা শাখার সভাপতি আকবর হোসেন বলেন, চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ কম হওয়ায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বরাদ্দ দিয়ে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন। প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।


সার সংকটের পেছনে চাহিদা নির্ধারণের ত্রুটিকেও দায়ী করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা যথাযথ পরিকল্পনা ও মাঠ পর্যায়ে যাচাই ছাড়াই চাহিদাপত্র তৈরি করেন।


তাঁর মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারাবছর আম, পেয়ারা, মাল্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের চাষ বাড়ছে। ফলে সারের চাহিদাও বাড়ছে। জেলায় ৪৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সব এলাকায় একই ধরনের ফসল উৎপাদিত হয় না। অথচ সার বরাদ্দ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের হিসাব অনুসরণ করা হয়। এতে এলাকার প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে বরাদ্দের অসংগতি তৈরি হচ্ছে।