স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষককের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
![]()
![]()
![]()

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোর গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও আরেকটি ধারায় ১৪ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মহিউদ্দজামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিকে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় একমাত্র আসামি ছিলেন তিনি।
রায় ঘোষণা সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, আসামি ফিরোজ আহমেদ। তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে। অপহরণ ও ধর্ষণের মামলাটি নাটোরজুড়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। সে সময় প্রধান শিক্ষককের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছিল এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড, মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছর কারাদ- ও ৯ এর ১ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী বলেন, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে নাটোরের নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার কথা বলে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে রাজশাহীতে চলে আসেন।
রাজশাহীতে একটি বাসায় আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় সেদিন রাতে শিক্ষক ফিরোজ আহমেদসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ছাত্রীর মা। পরে র্যাব ফিরোজ আহমেদকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেফতার করে।
আইনজীবী আরও বলেন, পুলিশ তদন্ত করে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেন। চার্জ গঠনের সময় বিচারক দুজনকে অব্যাহতি দিয়ে একমাত্র আসামি হিসেবে ফিরোজের বিচারকাজ শুরু করেন। পরে পরে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণা শেষে আসামি ফিরোজ আহমেদকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অশ্লীল ভাষায় কথা বলছিলেন। এসময় তিনি তার ছাত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজও করেন। তাকে বলতে শোনা যায়, আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার পাইনি। আমি উচ্চ আদালতে যাবো এবং ন্যায় বিচার নিয়ে আসবো। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীকে দেখা যায়নি।
রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন বাদীপক্ষ। মামলা বাদী জানান, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থীকে যেন তার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণ হোক। তিনি বিএনপি প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় আমাদের উপর বিভিন্ন রকম চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে তার লোকজন।