মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

দেশে কন্যাশিশু ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে, দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান হোক

WP Import ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:০৬ অপরাহ্ন
WP Import ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:০৬ অপরাহ্ন

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারা দেশে ৫৪ নারী যৌন হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৪ কন্যাশিশু। একই সময়ে ৩৯০ জন কন্যাশিশু ধর্ষণ ও দলগতধর্ষণের শিকার হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে ১০৪ জন শিশু।
শনিবার (৪ অক্টোবর) কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার চিত্র পর্যবেক্ষণবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।
এই তথ্য দেশের কন্যাশিুদের জন্য ভয়ঙ্কর এবং গভীর উদ্বেগের কারণ। দেশে শিশুদের এই অনিরাপদতার তথ্য আমাদের সামাজিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবক্ষয়ের ইঙ্গিতবহ। জাতি হিসেবে লজ্জার ও অবমাননাকর। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিরাবতা পালনের ধারণাকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার সময় হয়েছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন চলতি বছরের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানান হয়, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ২০২৪ এর একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
আসকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩০৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৭৫ জন। এদের মধ্যে ৪৯ জন শিশুর বয়স মাত্র ০ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী। অন্তত ১৫২টি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি, ফলে ধর্ষণের শিকার শিশুরা বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া বহু ঘটনা অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, এই ধর্ষণ মামলাগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশ ভুক্তভোগী ১৮ বছরের কমবয়সী শিশু। শুধু মেয়েশিশুই নয়, ছেলেশিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ৩০ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে (আসক)। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, যা জনসম্মুখে কমই উঠে আসে।
বাংলাদেশে শিশুরা পারিবারিক ও সামাজিক উভয় পরিবেশেই গভীর ঝুঁকির মধ্যে আছে। শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা একটি জাতীয় সংকটরূপ পরিগ্রহ করেছে। এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বহুমুখী একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় হলেও তেমন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এটা খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি যে শিশুদের প্রতি ন্যায্যতা প্রমাণ করা যাচ্ছে না। সামাজিক শাসন এবং আইনের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে উদাসীন দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি পরিিিস্থতিকে আরো সঙ্কটময় করে তুলছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ওপর। নিরাপদ পরিবেশের অভাবে শিশুর সর্বাঙ্গীণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তাদের জীবনে একটি স্থায়ী ক্ষত জায়গা করে নেয়। শিশুদের সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এটি আমাদের নৈতিক, আইনগত ও জাতীয় দায়িত্ব। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই, দৃঢ় অঙ্গীকার চাই।