সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথরসহ অন্য পণ্য সামগ্রী আমদানি কমে কর্মহীন হচ্ছে শতশত শ্রমিক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে এক বছর আগে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে ভারতীয় পাথরসহ অন্য পণ্য সামগ্রী আমদানির জন্য পরিচিত। ব্যবসায়ীদের দাবি, দুদেশ কর্তৃক অনেক পণ্যে ইমপোট পারমিশন না থাকায় আমদানি কমে গেছে। বিশেষ করে গত ৬ মাস যাবত পাথর আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। সড়ক-মহাসড়ক প্রকল্প কমে যাওয়ায় পাথরের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় আমদানি কমিয়ে দিচ্ছেন, আর শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে আয় হারাচ্ছেন। হঠাৎ এই ধস স্থানীয় অর্থনীতি, শ্রমিকজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন এক সংকটের জন্ম দিয়েছে।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনভর সোনামসজিদ স্থলবন্দর ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় পাথরবোঝাই ট্রাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
স্থলবন্দরের আমদানিকারক মো. সাঈদী ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ কম থাকায় পাথরের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। তারা যাদের কাছে পাথর বিক্রি করতেন তারা এখন আর সেভাবে নিচ্ছে না। ফলে আমদানি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই ব্যবসায়ীরা পাথর আনা কমিয়েছেন।
পাথর আমদানি কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। শ্রমিক সোবহান আলি বলেন, আগে দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হতো। এখন গাড়ি কম আসায় দিনে ৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না। আরেক জন শ্রমিক আলি হোসেন জানান, কাজ না থাকায় এখানে বসে সময় পার করছি। আয় না থাকায় এখন অন্য কাজের চিন্তা করছি।
আমদানিকারক আলি ইকরাম বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫ ট্রাক পাথর এনে লোকসান হয়েছে। তাই আপাতত পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন তিনি।
সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি বলেন, গত এক মাস ধরে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে। নতুন প্রকল্প কম হওয়ায় এবং পুরনো কাজগুলো বন্ধ থাকায় বাজারে চাহিদা নেই।
পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, এক মাস আগে প্রতিদিন গড়ে ২০০টি ভারতীয় পাথরবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০-এ। তিনি বলেন, এতে শুধু শ্রমিকরাই কর্মহীন হচ্ছেন না, সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর আমদানির এই ধস স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জীবিকা সরাসরি প্রভাবিত করছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অবকাঠামোগত প্রকল্পের কাজ বাড়লেই চাহিদা বাড়বে এবং আমদানির গতি ফিরবে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি কারক গ্রুপের সভাপতি ও বিশিষ্ট পাথর ব্যবসায়ী একরামুল ইসলাম বলেন, গত একসপ্তাহ থেকে চাউল,টমেটো এ বন্দরে প্রবেশ করলেও পাথর আমদানি কমে গেছে। এছাড়া অনেক পণ্যে দুদেশের আই পি থাকায় আমদানি কমে গেছে।
এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে চার ঘণ্টায় আমদানিকৃত মালামাল ঢাকায় চলে যাচ্ছে। এছাড়াও এ বন্দরে টেকনিক্যাল কিছু সমস্যা রয়েছে। এবন্দর দিয়ে বেশি ট্যাক্স যুক্ত পণ্য আমদানির খবর প্রকাশ হলে বেনাপোল বন্দরের একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ঐ পণ্য আমদানি করে থাকে। তারা কোনভাবেই তাদের সাথে পেরে উঠছেন না। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কয়েক বছর থেকে ফল আমদানি ব্ন্দ। কাজেই এখানকার ব্যাবসায়ীরা বেনাপোল বন্দরে চলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি এন বি আর এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।