সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

কোচিং বন্ধের নোটিশ দিয়ে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক

WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৬ অপরাহ্ন
WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৬ অপরাহ্ন
কোচিং বন্ধের নোটিশ দিয়ে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক
কোচিং বন্ধের নোটিশ দিয়ে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক

মান্দা প্রতিনিধি :


নওগাঁর মান্দায় কোচিং সেন্টার বন্ধের নোটিশ জারির জেরে মবের শিকার হয়েছেন পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর, প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউল হক জিয়া বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাসায় নিয়মিত কোচিং করিয়ে আসছিলেন। মাসিক দুই হাজার টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন তিনি। গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ কোচিং সেন্টার পরিচালনা বন্ধে নোটিশ জারি করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জিয়াউল হক।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, অষ্টম শ্রেণির ২৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের সিদ্ধান্ত হয় ১ সেপ্টেম্বর ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সভায়। এতে কোচিংয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় শিক্ষক জিয়া আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ৪৯ হাজার ৬৫১ টাকা সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমানের হেফাজতে থাকলেও তা ব্যাংকে জমা দেননি তিনি। ৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর থেকেই জিয়াউল হক ও আব্দুর রহমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনকে উসকে দিয়ে মব তৈরি করা হয়। সেই মবের সামনে প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার মোটরসাইকেল।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাভলী আক্তার বলেন, ‘দুই সহকারী শিক্ষকের ইন্ধনে বিদ্যালয়ে মব সৃষ্টি হয়েছে। এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষকতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, শিক্ষক জিয়াউল হক ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার ‘ডামি প্রার্থী’ ছিলেন এবং বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর শিক্ষক আব্দুর রহমানও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না অন্য শিক্ষকেরা।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাছুমা আক্তারের মা চম্পা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে শুরু থেকেই জিয়া স্যারের কোচিংয়ে পড়ে। কিন্তু বিদ্যালয়েই যখন অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা হলো, তখন জিয়া স্যার ক্ষিপ্ত হন। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ের ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের অর্থ জমা না দেওয়া এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নোটিশ দেওয়ার কারণে আমাকে টার্গেট করা হয়। ধর্মীয় শিক্ষক মোতাসিম বিল্লাহর সহায়তায় শিক্ষক জিয়াউল হক ও আব্দুর রহমান মব তৈরি করে আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় আমার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অপর শিক্ষক জিয়াউল হকের ফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ থানায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।