সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

শরতেও ভ্যাপসা গরম

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শরতেও ভ্যাপসা গরম

ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন চলছে শরৎকাল। আকাশে শরতের শুভ্র মেঘের দেখা মিললেও প্রকৃতিতে যেন নেই কোনো স্নিগ্ধতা। রাজশাহীতে দিন দিন বাড়ছে গরম। বরং তীব্র রোদ ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে দিন দিন বাড়ছে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা। শরতের এই অস্বাভাবিক গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজশাহীর সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে তীব্র রোদে চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও পথচারিরা। এর সঙ্গে দিনে ও রাতে দফায় দফায় লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।


রোববার (২৩ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বৃষ্টিহীন আবহাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল অনেক বেশি। সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ৯১ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় তা ছিল ৭২ শতাংশ। শনিবার ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। 


রোববার মহানগরীর ভদ্রা, নগরভবন, সাহেব বাজার, শিরোইল বাস টার্মিনাল, তালাইমারী ও স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের কড়া রোদে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল করতে তুলনামূলক বেশি সমস্যা পোহাতে হচ্ছে । রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের ছায়াযুক্ত স্থানে জিরিয়ে নিতে দেখা গেছে। অনেকেই রাস্তার পাশের শরবত ও ডাবের দোকানে ভিড় করছেন একটু শীতল পরশের আশায়।


নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় রিকশাচালক রহমত আলী বলেন, শরৎকাল চলে এসেছে,  তাও গরম কমার কোনো নাম নাই। বাতাসে বাতাস নাই, খালি ঘাম বের হয়। দুপুরবেলা রিকশা টানলে দম বন্ধ হয়ে আসে। মানুষজনও রোদে কম বের হচ্ছে, যার কারণে ভাড়াও পাচ্ছি না।


গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর মেস ও হোস্টেলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীরা। নগরীর ভদ্রা এলাকায় মেসে থেকে পড়াশোনা করা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অনামিকা জাহান বলেন, শরৎকালেও যে এত অসহ্য ভ্যাপসা গরম পড়তে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না। তার ওপর দিনে-রাতে বারবার কারেন্ট চলে যাচ্ছে। ছোট ছোট মেস রুমগুলো পুরো চুলার মতো তেতে থাকে। ফ্যান না চললে এক মিনিটও রুমে টেকা যায় না, বই খুলে পড়া তো দূরের কথা। রাতে ঘুমের অভাবে শরীরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। 


তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। এতে একদিকে যেমন অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে বাসাবাড়ির ফ্রিজে থাকা খাদ্যদ্রব্য। 


এদিকে দিনভর কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরম শেষে একটু স্বস্তির খোঁজে বিকেলে পদ্মা নদীর পাড়ে ভিড় করছেন নগরবাসী। পদ্মার টি-বাঁধ, পদ্মা গার্ডেন ও লালন শাহ মুক্তমঞ্চ এলাকায় খোলা বাতাসে সময় কাটাতে দেখা গেছে নানা বয়সের মানুষকে।


তালাইমারী এলাকার এক অভিভাবক ফারহানা  ইয়াসমিন বলেন, শরৎকাল চলছে কিন্তু রোদের তেজ আর বাতাসে এমন ভাপ যে বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হওয়াই দায়। স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চা গরমে পুরো নিস্তেজ হয়ে পড়ে, এর ওপর বাসায় এসেও লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যান চালানো যায় না। শরীরে ঘাম বসে ওর ঠাণ্ডা-জ্বর লেগে গেছে, রাতেও গরমে ঘুমাতে পারে না। পরীক্ষার এই সময়ে বাচ্চাদের পড়ার টেবিল আর ঘুমের ঘাটতি নিয়ে আমরা অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি।