সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধান চাষে কৃষকের স্বপ্ন পূরণের আশা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধান চাষে কৃষকের স্বপ্ন পূরণের আশা

সকাল হতে না হতে  কৃষক ও কিষাণীরা হাতে দাওলি ও সকালের নাশতা নিয়ে হাজির চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের ধানের জমিতে। তারা ভালো ফলনের আশায়  আমন ধানের জমিতে আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ধানের জমিতে চলছে আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও নিড়ানির কাজ। ভালো ফলনের আশায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।


জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকরা হাতে নিড়ানি নিয়ে ধানের জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ ও ধানগাছের পরিচর্যা করছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ায় ধানের পাশাপাশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাছাও দ্রুত বেড়ে উঠেছে। ফলে আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আগাছা পরিষ্কারে বাড়তি সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে কৃষকদের।


কৃষকদের ভাষায়, ধানের জমিতে সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে আগাছা ধানগাছের সঙ্গে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পানি, সার ও পুষ্টি গ্রহণ করে। এতে ধানগাছ দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ধানের চারা কিছুটা বেড়ে ওঠার পরপরই তারা জমিতে নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করছেন।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, আমন ধানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে আগাছা পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পর জমিতে আগাছা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে ধানের গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। ভালো ফলনের আশায় বাড়তি শ্রম দিয়ে হলেও জমি পরিষ্কার রাখতে হচ্ছে।


শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, আমন মৌসুমে ধানের জমিতে কয়েক দফায় আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পরপরই আগাছা দ্রুত বেড়ে ওঠে। জমিতে আগাছা বেশি হলে ধানের গাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করে আগাছা পরিষ্কার করছেন তারা।


গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন মাঠেও একই চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা ধানের জমিতে নিড়ানি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ ও সেচের ব্যবস্থা করছেন। ভোলাহাট উপজেলার কৃষক মো: শালেক বলেন, আমন ধানের জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এ মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে।


কৃষকরা বলছেন, আমন ধানের উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে। শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের পেছনে তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর মধ্যে সময়মতো জমির পরিচর্যা না করলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাড়তি খরচ হলেও তারা জমির পরিচর্যায় কোনো ধরনের গাফিলতি করতে চান না।


গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন বলেন, আমন ধানের ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত জমি পরিদর্শন, সময়মতো আগাছা দমন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধানের জমিতে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সময়মতো আগাছা দমন ও সঠিক পরিচর্যা করা হলে ধানের গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, ধানের জমিতে নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো আগাছা দমন করা হলে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমিতে আগাছার বিস্তার বেড়ে যায়, যা ধানগাছের প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি গ্রহণে প্রতিযোগিতা তৈরি করে। তাই সঠিক সময়ে আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমনের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।


কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাওয়া গেলে চলতি আমন মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে। তাই ধানের গাছ পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত জমি পরিচর্যা, আগাছা দমন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।