আমরাইল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদক অভিযোগ তদন্তে কমিটি
মোহনপুর উপজেলার আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. মুনজুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় দৈনিক সোনার দেশ ও জাতীয় দৈনিক ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. মুনজুর রহমান মাদকাসক্ত এবং এর ফলে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা করছেন—এমন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসানকে আহ্বায়ক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বিভাস কুমার শর্মাকে সদস্য এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মোহনপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মো. শাহাদত হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
অফিস আদেশে কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
১৩ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ১৪ জন
এর আগে, আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।
১১ আগস্ট ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টশিট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। অথচ বিদ্যালয়টিতে ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন এবং তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
চিঠিতে এ ঘটনাকে মোহনপুর উপজেলার জন্য ‘অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক’ উল্লেখ করে ১৩ জন শিক্ষার্থীর কেউ কেন উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষককে চিঠি পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। অন্যথায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের কথাও জানানো হয়।
ওই চিঠির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ৫৪-রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।
এবার মাদকাসক্তির অভিযোগের তদন্ত
এদিকে মাদকাসক্তির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায়ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষক মাদক সেবন থেকে বিরত রয়েছেন। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, “আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি আগামীকাল সোমবার সরেজমিনে তদন্তের জন্য যাবে।”
তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হবে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বিভাস কুমার শর্মা জানান, প্রধান শিক্ষক মাদকাসক্ত কি না, তা নির্ধারণের জন্য পুলিশের মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অর্থাৎ, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগটি তদন্তাধীন এবং ডোপ টেস্টের ফলাফল ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা মাদকাসক্তির অভিযোগ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান—দুই বিষয়েই প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শুরু হওয়ায় এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে কী সিদ্ধান্ত আসে—তা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।